...|...|...

সারাদেশ

কক্সবাজারে ৩ জনের মৃত্যু

বন্ধুকে বাঁচাতে হাত ধরে শিকল তৈরি, শেষ রক্ষা হয়নি তাদের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৬:৫৮
Shares
বন্ধুকে বাঁচাতে হাত ধরে শিকল তৈরি, শেষ রক্ষা হয়নি তাদের

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন তিন তরুণ। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সৈকতের নির্জন একটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের মধ্যে রোহান ও জিশান ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। অপর নিহত আকাশ চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাংলাবাজারের বাসিন্দা। নিখোঁজ দুজন হলেন ঢাকার উত্তরার নিবিড় ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার হারুন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচজন এবং ঢাকা থেকে আসা সাতজন পর্যটক ওই সময় সৈকতে ছিলেন। তাদের একজন সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন অন্য পর্যটকেরা। একপর্যায়ে তারা পরস্পরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ঢেউয়ের ধাক্কায় কয়েকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে স্রোতে ভেসে যান।

নিহত রোহানের খালু মো. জাহিদ জানান, সমুদ্রে গোসল করার সময় তাদের কাছাকাছি থাকা এক পর্যটক ভেসে যেতে থাকেন। এ সময় তিনি ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন। বন্ধুকে বিপদে দেখে কয়েকজন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান।

জাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে ওই পর্যটককে টেনে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ বড় একটি ঢেউ আছড়ে পড়লে তারা পানিতে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পরে ঢেউয়ের ধাক্কায় একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্রোতে ভেসে যেতে থাকেন। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবু জাফর বলেন, উত্তাল সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সাঁতার জানা-না-জানা নির্বিশেষে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বঙ্গোপসাগরের স্রোত ও ঢেউ বিপজ্জনক হতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, পর্যটকেরা সাঁতার জানেন কি না, তা জানতে চাওয়া হলে তারা কেউই সাঁতার জানেন না বলে জানান। এরপরও কেন তারা সমুদ্রে নেমেছেন, জানতে চাইলে পর্যটকেরা বলেন, তারা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন, সেখান থেকে জানানো হয়েছিল, ওই স্থানে গোসল করলে সমস্যা হবে না।

রামুর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও রামু থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের নিষেধ উপেক্ষা করে পর্যটকেরা ওই স্থানে সমুদ্রে নামেন। পরে দুর্ঘটনা ঘটলে অন্য পর্যটকেরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউএনও আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।