বাধা-বিপত্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা পেরিয়ে অবশেষে পাবনার ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত হলো কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার তাফসিরুল কোরআন মাহফিল।
ব্যাপক জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সাহাপুরে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নানা আলোচনা-সমালোচনা ও আপত্তির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় ধর্মীয় এ আয়োজন।
উপজেলার সাহাপুরে কদিমপাড়া দারুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে মরহুম সিরাজ মৃধার ধানের চাতালে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে একই মাদ্রাসার উদ্যোগে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিলের আয়োজন করা হলেও রাজনৈতিক বাধার কারণে পরপর দুই বছর তা স্থগিত করতে বাধ্য হন তারা। এ কারণে এবার মাহফিল আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা।
মুফতি আমির হামজার বক্তব্যে রাজনৈতিক আলোচনা, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করে মাহফিলের আগে ঈশ্বরদী থানায় স্মারকলিপি দেয় সাহাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল।
গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের বক্তব্য ও উসকানিমূলক মন্তব্য বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়।
ছাত্রদলের এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মাহফিলের আগে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়। একদিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাহফিল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, অন্যদিকে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা—সব মিলিয়ে সাহাপুরসহ পুরো ঈশ্বরদীতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
তবে নানা শঙ্কা ও বিতর্কের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় মাহফিল। ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে সাহাপুরের মাহফিলস্থল। রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা থাকলেও আয়োজনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


