...|...|...

জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য ৪ কোটি পরিবার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:২৭
Shares
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য ৪ কোটি পরিবার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ পরিবার এ কার্ডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে যোগ্য সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চায় সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না; যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্ধারণে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) নামে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এ পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের গ্রেডিং করা হবে, যাতে তথ্য সংগ্রহ ও সুবিধাভোগী নির্বাচনে ভুলের পরিমাণ কমানো যায়।

জাহিদ হোসেন জানান, দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরুর আগে প্রকল্পটির পাইলটিং সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনের সম্ভাব্য ত্রুটি যাচাই করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ক্ষেত্রেই ত্রুটির হার ২ থেকে ৩ শতাংশ ছাড়ায়নি। পরীক্ষায় চিহ্নিত ত্রুটিগুলোও সংশোধন করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য নেবেন। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো যোগ্য পরিবার যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই দাবি করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনের কাজে কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিকে রাখা হয়নি। ইউএনএ-এর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটলেও সবার সহযোগিতায় সেগুলো পদ্ধতিগতভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। এটি একটি সর্বজনীন কর্মসূচি হওয়ায় তথ্য সংগ্রহে রাজনৈতিক কারসাজির সুযোগ নেই। কাউকে অন্যায়ভাবে সুবিধা দেওয়া কিংবা যোগ্য কাউকে বঞ্চিত করার সুযোগ রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সব হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সুবিধা পেতে কাউকে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না, আবার কাউকে বঞ্চিতও করা যাবে না।

ফ্যামিলি কার্ডের ডেটাবেইসে সংরক্ষিত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিস্তর সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তার মতে, তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে উপকারভোগী নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপের পরিবর্তে নির্ধারিত মানদণ্ডে সুবিধাভোগী নির্বাচন করাই এ ব্যবস্থার লক্ষ্য।

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নেওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের যোগ্য হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।