ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা পেতে নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সরকারি নীতিমালায় এমন আটটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যার যেকোনো একটি প্রযোজ্য হলে পরিবারটি এ সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য হতে পারে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সহায়তার প্রয়োজন বেশি—এমন পরিবার চিহ্নিত করা হবে।
যে ৮ শর্তে মিলবে না ফ্যামিলি কার্ড
১. নির্ধারিত সীমার বেশি পিএমটি স্কোর
“সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে না।”
২. নিয়মিত বেতন-ভাতা পাওয়া নারীপ্রধান
“পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে তিনি সুবিধার বাইরে থাকবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না।”
৩. সরকারি পেনশন গ্রহণকারী নারীপ্রধান
“পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অনুরূপ অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারী এ শর্তের বাইরে থাকবেন।”
৪. পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় বা বিনিয়োগ
“পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে সুবিধা মিলবে না। একইভাবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।”
৫. তিন বা চার চাকার নিবন্ধিত মোটরযান
“পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। এর মধ্যে সিএনজি বা পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।”
৬. বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা
“পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে তিনি এ কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।”
৭. করযোগ্য আয়সহ নিয়মিত করদাতা
“পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তাঁর করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার জন্য যোগ্য হবে না।”
৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমি বা বাণিজ্যিক সম্পদ
“বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি বা জায়গার বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।”
কারা অগ্রাধিকার পাবেন?
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে গ্রামীণ হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের, ভূমিহীন ও দিনমজুর পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপার্জনে অক্ষম সদস্য থাকা পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত ও অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারও অগ্রাধিকার পাবে।
এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী—বিশেষ করে নারী অভিবাসীর পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তথ্য সংগ্রহে টাকা লাগবে না
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য দিতে কোনো অর্থ লাগবে না। কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। এমন দাবি করা হলে ১০৯৮ নম্বরে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা তুলে ধরে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



