বাংলাদেশে বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকভিত্তিক মোবাইল সেবা চালুর খবর সামনে আসার পর এটি ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সেবার মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থেকেও স্যাটেলাইটের সাহায্যে সংযুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেবাটি ব্যবহারের জন্য ফোনের উপযোগিতা, নেটওয়ার্কের আওতা এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা জরুরি।
প্রথম ধাপে ধাপে যা করবেন-
১. ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম নিশ্চিত করুন: আপনার ফোনে ৪জি সুবিধা থাকতে হবে এবং ফোনে বাংলালিংক সিম ব্যবহার করতে হবে।
২. ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখুন: ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক সেটিংস হালনাগাদ রাখুন। ফোনে ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা চালু আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন।
৩. MyBL অ্যাপ দেখুন: MyBL অ্যাপে প্রবেশ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা বা এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা আছে কি না দেখুন। সেবাটি সম্পর্কে অপারেটরের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
৪. প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে সংযোগ পরীক্ষা করুন: স্যাটেলাইট সেবা পাওয়া যায় এমন এলাকায় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলে ফোনের সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে যেতে পারে। সংযোগ পেতে খোলা আকাশের নিচে থাকা সহায়ক হতে পারে।
৫. সংযোগ না পেলে অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন: ফোন ও সিম উপযুক্ত হওয়ার পরও সেবা না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবা থেকে আপনার নম্বরে সুবিধাটি চালু আছে কি না এবং ব্যবহারের শর্ত জেনে নিন।
কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে-
স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবার মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকাতেও সংযোগের সুযোগ বাড়ানো। সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্গম জনপদ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হলে এ ধরনের প্রযুক্তি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
বাংলালিংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেবাটি চালুর উপলক্ষে প্রথম মাসে যেকোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সাথে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের গ্রাহকেরা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এ সুবিধা পেতে পারেন। এ ছাড়া স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সুবিধা পেতে কোন কোন প্যাক প্রযোজ্য, সেবাটি কীভাবে সক্রিয় হবে এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা অপারেটরের সর্বশেষ নির্দেশনা থেকে যাচাই করা উচিত।
প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সাথে পার্থক্য-
সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়ি বা অফিসে ডিশ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হয়। কিন্তু স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সংযোগের ধারণা আলাদা। এতে উপযুক্ত মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আলাদা ডিশ স্থাপনের প্রয়োজন ছাড়াই সংযোগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবা সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। স্যাটেলাইটের আওতা, ফোনের মডেল ও প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য, অপারেটরের ব্যবস্থা এবং সেবার ধরন অনুযায়ী সংযোগের মান ও প্রাপ্যতা ভিন্ন হতে পারে। তাই কেবল ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করলেই সেবা চালু হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
কারা পাবেন এ সুবিধা-
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ সেবা বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালুর কথা বলা হয়েছে। অন্য মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকেরা একই সুবিধা পাবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।
সুতরাং সেবা ব্যবহারের আগে বাংলালিংকের সর্বশেষ নির্দেশনা, নিজের সিমের যোগ্যতা এবং নির্ধারিত প্যাকের শর্ত যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এতে অপ্রয়োজনীয় সেটিংস পরিবর্তন বা ভুল পদ্ধতিতে সেবা চালুর চেষ্টা এড়ানো যাবে।

