...|...|...

বিশ্ব

দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করার সময় এসেছে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৪৬ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:০৬
Shares
দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করার সময় এসেছে

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। আটক করা হচ্ছে আন্দোলনকারীদের। এমন পরিস্থিতিতে এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে গড়ে তোলার সময় এসেছে।

শনিবার সকালে কনট প্লেস ও যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের কড়া ব্যারিকেড দেখা যায়। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দলের সমর্থকদের আটক করতে শুরু করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঠেকাতে নয়াদিল্লিতে প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৫০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন। বাতিল করা হয়েছে দিল্লিগামী ট্রেন চলাচল। পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ না নিতে সতর্ক করার অভিযোগও উঠেছে।

বিক্ষোভের আয়োজক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিতে আসার পথে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের আটক এবং কয়েকজনকে নিজ নিজ এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

কনট প্লেসে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী পরিচ্ছন্নতাকর্মী সন্তোষ কুমার আল-জাজিরাকে বলেন, পুলিশ ১০ জনকে আটক করলে আরও ৫০ জন এগিয়ে আসছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে গড়ে তোলার—তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশটাকে ফিরিয়ে আনার।’

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের মধ্যেও তরুণদের বিক্ষোভ থামছে না। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে হবে।

এদিকে, ভোটার তালিকার পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরও সামনে এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকার নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করেছিল এবং বিরোধী নেতাদের কারাবন্দি করেছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দমনমূলক ব্যবস্থা বিক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী নেতাদের আটক এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।