চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ‘নতুন সংস্করণ’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ডেভিড জিহাদকে আটক করেছে লোহাগাড়া থানা-পুলিশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
ডেভিড জিহাদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে স্কুলশিক্ষককে হুমকি দেয়ার অভিযোগের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট লোহাগাড়ার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহকে (১৫) স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের একটি দল। বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন সহকর্মী নাজিবকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করেন। পরে তারা বটতলী স্টেশনের ইনসাফ রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে আবদুল্লাহর সহপাঠী ও ঘটনার সাথে জড়িত আয়ানকে আটক করেন। তবে আবদুল্লাহকে মারধরের সাথে জড়িত অন্য কিশোরেরা পালিয়ে যায়।
পরে আয়ানকে লোহাগাড়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আয়ানকে পুলিশের কাছে দেয়ার পর প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমনের মুঠোফোনে হুমকিসংবলিত একটি কল আসে। ওই কলের রেকর্ডে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ডেভিড জিহাদ। আপনি থানায় গিয়ে মামলা দেন। আপনার ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ, আপনার ছেলে... আপনি ভুল জায়গায় হাত দিছেন, বুঝছেন!’ এরপর বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হয়।
তবে এর মধ্যেই একই ঘটনার জের ধরে বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়কে নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাতসহ শরীরের অন্তত পাঁচটি স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়।
হামলায় ডেভিড জিহাদের নেতৃত্ব ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের পরিবার বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লোহাগাড়া থানায় মামলা করে। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা ছাড়া অন্য কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ডেভিড জিহাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


