নাটোরে রাষ্ট্রয়াত্ব সোনালী ব্যাংকে জালিয়াতি করে ১কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোসহ নানা অপরাধে নাটোর বাস টার্মিনাল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক লিটন কুমার এবং বিপুল কুমার পালকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশের সব ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া কোটি কোটি টাকার ভুয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোর বিষয় আভ্যন্তরিন অডিটে প্রমাণিত হওয়ায় মোট চারজন শাখা ব্যবস্থাপকসহ ৫ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে অভিযুক্তদের স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ব্যাংকের প্রধান শাখায় সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।
গত ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স এন্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন নাটোর ও নওগাঁর প্রধান শাখাকে গোপনীয়তার সাথে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশনা দিলেও সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের নাটোর শহরের বাসষ্ট্যান্ড শাখা (পুরাতন মহিলা শাখা), স্টেশন বাজার শাখা, গুরুদাসপুর এবং চাঁচকৈড় শাখায় অভ্যন্তরীণ বিশেষ অডিট পরিচালনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এতে সোনালী ব্যাংক বাসষ্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে নওগাঁ প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার জালিয়াতি করে ব্যাংকের ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বাসষ্ট্যান্ড শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখা ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার পাল ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে।
পাশাপাশি সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার সেরা শাখা ব্যবস্থাপক হয়ে পুরস্কার বা এ্যাওয়ার্ড পাওয়ার জন্য অবৈধ উদ্দেশ্যে তিন কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকার ভুয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখিয়েছেন।
এগুলোসহ আরও বিভিন্ন গ্রাহকের নামে অর্থ আত্মসাতে বাসষ্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা প্রধান লিটন কুমারকে একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখা ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার পাল সহযোগিতা করেন। অডিটে নাটোর স্টেশন বাজার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এএইচএম রোকনুজ্জামান ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভুয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি,
একই অভিযোগে গুরুদাসপুর শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মনিরুজ্জামান ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং চাঁচকৈড় শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে বড়াইগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হাফিজুর রহমান ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ভুয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখিয়ে সেরা শাখা ব্যবস্থাপক হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের ক্ষতিসাধন করেছে।
এ ধরনের জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ৫ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ১কোটি ২৭লাখ ৩৬হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া ঋণপত্র ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোর অপরাধে নাটোরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমার এবং বিপুল কুমার পালকে দেওয়া হয়েছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা।
সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ইনচার্জ মো. শওকত জামান স্বাক্ষরিত পত্রে এই দুই কর্মকর্তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশের সব ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এসব বিষয়ে জানতে বার বার চেষ্টা করেও নাটোরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমারকে পাওয়া যায়নি।
অপর অভিযুক্ত বিপুল কুমার পাল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বরখাস্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কোনো লিখিতপত্র এখনও তিনি হাতে পাননি, তবে লোকমুখে শুনেছেন। লিখিতপত্র পেলে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
অপরদিকে সোনালী ব্যাংকের নাটোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম ও ইনচার্জ আহসান রেজা বলেছেন, ঊর্ধ্বতনদের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে মিডিয়ার সামনে তিনি কোনো কথা বলতে পারবেন না। এদিকে সোনালী ব্যাংকের জেলার শীর্ষ পাঁচজন কর্মকর্তার এ ধরনের জালিয়াতি প্রকাশ হয়ে পড়ায় জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।


