...|...|...

খুলনা

চুয়াডাঙ্গা সরকারি গার্লস স্কুলে প্রশ্ন ফাঁস, তদন্তে মিলল জালিয়াতির তথ্য

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫১
Shares
চুয়াডাঙ্গা সরকারি গার্লস স্কুলে প্রশ্ন ফাঁস, তদন্তে মিলল জালিয়াতির তথ্য

চুয়াডাঙ্গা সরকারি গার্লস স্কুল। ছবি: টাইমস টুডে

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত আরও বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে সাবেক প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে নিয়োগ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এসব অভিযোগের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে শাহজামালকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তদন্ত শেষ হয়নি।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার তদন্তের মধ্যেই নতুন এসব অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসন ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি নিয়োগ ও ভর্তি কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিদ্যালয়টির এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির প্রধান বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন নথি ও তথ্য যাচাই করতে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের বাইরেও বিদ্যালয়ের নিয়োগ, ভর্তি ও শিক্ষার্থীদের শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য সামনে আসে।

বিদ্যালয় ও প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত শাহজামালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে লোক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থাকলেও তিনি কম্পিউটার অপারেটর পদের বেতন তুলতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে মাস্টার রোলে নিয়োগসংক্রান্ত নথি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, কত টাকা লেনদেন হয়েছে এবং নথিগুলোতে কার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

শুধু নিয়োগসংক্রান্ত নথিই নয়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত কিছু তথ্যও ওই কম্পিউটারে পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। এসব তথ্যের সাথে ভর্তি-বাণিজ্য বা অন্য কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে যান তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন বলে জানা গেছে।

পরে শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে রাত গভীর হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদী হয়ে শাহজামালের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেবেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘বিস্তারিত জানার পর সব বলতে পারব। আপাতত অভিযুক্ত থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে।’

তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় শাহজামালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।