...|...|...

চট্টগ্রাম

কক্সবাজারে দখলদারদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচ বনকর্মী আহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৫:৫০ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:৫৩
Shares
কক্সবাজারে দখলদারদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচ বনকর্মী আহত

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযান গিয়ে দখলদারদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচ বনকর্মী আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, রামুর পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম, বনরক্ষী হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, কর্মচারী মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।

আহত রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পানের বরজ নির্মাণের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসময় স্থানীয় দখলদার জসিম উদ্দিন, নাজির হোসেন ও সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ পাঁচজন আহত হন। 

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঝিলংজা বিট কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শোভন বলেন, আহতদের মধ্যে ৩ জনের ব্যাপক জখম হয়েছে। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তার মাথায় ৯টি সেলাই করা হয়েছে। অন্য দুইজনের ৩টি করে সেলাই দেওয়া হয়েছে। বাকিদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়েছে।

কক্সবাজার রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম জানান, আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিকেলের মধ্যে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।  তবে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। যদিও এখনো পর্যন্ত বনবিভাগের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দায়িত্বপালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। 

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।