ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আয়োজনে ডিপ ফ্রিজ বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়েছে শাহ আজিজুর রহমান হল কর্তৃপক্ষ। তবে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) হলের প্রধান ফটকে হল কর্তৃপক্ষের নামে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়। এতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আয়োজিত ডিপ ফ্রিজ বিতরণ অনুষ্ঠানে হলের সব শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সৌজন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ৯টি ডিপ ফ্রিজ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীর উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে শাহ আজিজুর রহমান হলের সব শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ‘আদিষ্ট হয়ে জানানো হলো’ বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে আমরা হল প্রশাসনকে কোনো নোটিশ দিতে বলিনি। প্রভোস্ট স্যারদের শুধু দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। স্যাররা আসার সময় কোনো শিক্ষার্থী আসতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এভাবে নোটিশের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।”
অন্যদিকে হলটির সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রভোস্ট স্যারের অনুমতি নিয়েই আমরা নোটিশটি টাঙিয়েছি। নোটিশে ‘আদিষ্ট হয়ে জানানো হলো’ লেখা ছিল। তাই স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়নি।”
তবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ।
তিনি বলেন, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাকে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি অবগত করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে শুনেছি কে বা কারা একটি নোটিশ টাঙিয়েছে। তবে নোটিশটি আমার অনুমতি ছাড়াই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি একদমই অবগত নই। আগামীকাল বিষয়টি দেখব।”
এ ঘটনায় বিজ্ঞপ্তি টাঙানোর অনুমতি নিয়ে হলের প্রভোস্ট ও সহকারী রেজিস্ট্রারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

