...|...|...

বিশ্ব

স্কুলে হিজাব পরতে বাধা দেওয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল আজারবাইজান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:০১ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:০৩
Shares
স্কুলে হিজাব পরতে বাধা দেওয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল আজারবাইজান

ছবি: সংগৃহীত

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন পোশাকবিধির কারণে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্লাসে যোগ দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলের গেটের সামনে বিক্ষোভ প্রদশর্ন করছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

গত মাসে অনুমোদিত সংশোধনীতে সরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন পোশাক পরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের ‘ধর্মনিরপেক্ষ নীতি’র সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শিক্ষক জহরা হাসানোভা আল-জাজিরাকে জানান, তাঁকে বলা হয়েছে, স্কুলে আর হিজাব পরতে পারবেন না। এ ঘটনায় ব্যথিত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হিজাব পরা বা খুলে ফেলা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।

আজারবাইজানি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের পোশাকবিধিতে সংশোধনীর লক্ষ্য অভিন্ন পোশাক নিশ্চিত করা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি প্রতিফলিত করা। তবে দেশটির সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতারও নিশ্চয়তা রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম।

নতুন বিধির প্রতিবাদে অন্তত দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্কুলে হিজাব পরতে বাধা পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।

এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে ১১৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করা সাংবাদিক পোলাদ আসলানোভও নতুন বিধিনিষেধের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন। স্ত্রীর মাধ্যমে ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তিনি এ পদক্ষেপকে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী তুরস্কেও। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৯৭ সালে তুরস্কে হিজাবের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের তুলনাও করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ দেশের জীবনযাত্রায় বাইরের হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেন। নিজের দল নিউ আজারবাইজান পার্টির সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন, তবে সরাসরি তুরস্কের নাম উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অন্যদিকে, ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওওএনআই ও নেটব্লকসের তথ্যেও আজারবাইজানে ইন্টারনেট বন্ধ বা ব্ল্যাকআউটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।