...|...|...

সারাদেশ

সারের ডিলারশিপ পেলেন এমপির ছেলে, বোনজামাই ও ভাগ্নের বউ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৭
Shares
সারের ডিলারশিপ পেলেন এমপির ছেলে, বোনজামাই ও ভাগ্নের বউ

সংসদ সদস্য এম এ হান্নান। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ডিলার তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে, বোনজামাই ও ভাগ্নের স্ত্রীর নাম আসায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। 

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তালিকা প্রকাশের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়ন থেকে সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে আদনান সাদী ‘মেসার্স আলীয়াহ ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন থেকে তার আপন বোনজামাই আরক মিয়া ‘মেসার্স আয়ান ট্রেডার্স’ নামে এবং গোয়ালনগর ইউনিয়ন থেকে তার আপন ভাগ্নে শরীফের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা ‘এস এস ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন।

সংসদ সদস্যের ছেলে ও আত্মীয়স্বজনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনও নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

নাসিরনগর ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০১টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভায় ১০৬টি সার ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন করেন ৮২৫ জন। যাচাই-বাছাই শেষে সার ডিলার-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে ২৯২ জনের আবেদন সুপারিশসহ পাঠানো হয়।

প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনজনের নাম সুপারিশ করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ডিলার নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়। যাচাই শেষে উপজেলা কমিটি থেকে তিনজনের নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়।

তবে তালিকায় সুপারিশ করা তিনজনের মধ্যে প্রথম স্থানে নাম রাখার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান বলেন, উপজেলা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য যেসব নাম পাঠানো হয়েছে, সেগুলোই সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে দু-একটি ক্ষেত্রে কিছুটা এদিক-সেদিক হয়েছে।

ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার জন্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এমন কোনো লেনদেন করিনি। অন্য কেউ করেছে- এমন অভিযোগও আমার জানা নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ে তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ হয়ে থাকতে পারে।

ডিলার তালিকা প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।