...|...|...

সারাদেশ

সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, বিপাকে পর্যটকরা

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৫২
Shares
সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, বিপাকে পর্যটকরা

ছবি: প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াতের প্রধান সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হওয়ায় চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটকরা। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের অনেকেই আটকা পড়েছেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন অবরোধকারীরা।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে, সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানান, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা বহর বা স্কর্টের সাথে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে ৯০টি যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছে। এসব যানবাহনে প্রায় ৯০০-এর বেশি পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন।

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে আগের মতো দুই দফার পরিবর্তে দুপুর ২টায় একবার স্কর্ট চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই স্কর্টে পর্যটকদের সাজেক থেকে নামানো এবং নতুন পর্যটকদের প্রবেশের ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।