...|...|...

সারাদেশ

সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে চট্টগ্রামে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল

মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:২১ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৩৭
Shares
সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে চট্টগ্রামে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম কমলেও এর প্রভাব পড়ছে না চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে। বরং সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে সেখানে গত দেড় মাসে দুই ধরনের তেলের দাম মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের আগস্টের পণ্যদরসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ের তুলনায় জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

বর্তমানে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ সয়াবিন তেল প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেল প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম ছিল প্রায় ৩০০ টাকা কম।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, সরবরাহ দেওয়া হলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় বাজারে দামের চাপ তৈরি হয়েছে। পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয় এবং পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচ স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সাথে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে হলে আমদানি থেকে বাজার পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিতে হবে। সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন।

অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, সামনে রমজানকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দাম বাড়ানোর অজুহাত তৈরি হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন কি না, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।