...|...|...

বিশ্ব

মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনে নতুন নিয়ম চালু করল আসাম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০৯ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১১
Shares
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনে নতুন নিয়ম চালু করল আসাম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যে মুসলিম বিবাহ ও তালাক কঠোরভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনতে নতুন এক আইন ও কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এর ফলে এখন থেকে সরকারি নিবন্ধকদের মাধ্যমেই সমস্ত মুসলিম বিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের জন্য একটি অভিন্ন পদ্ধতিগত কাঠামো তৈরির লক্ষে ‘আসাম মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন (কম্পালসরি) রুলস, ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে মুসলিম বিবাহগুলো কেবল সরকারি নিবন্ধকদের দ্বারাই রেজিস্ট্রিকৃত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, যদি নিবন্ধনের জন্য আবেদনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে সাধারণ মানুষের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে না হয় সেজন্য সরকার পর্যায়ক্রমে অতিরিক্ত কর্মকর্তা বা নিবন্ধক নিয়োগ করবে।

এর আগে, সরকারের পক্ষ থেকে ‘কাজি’দের মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনে বাধা দেওয়া হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থার কথা স্পষ্ট করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের নিজস্ব নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম বিবাহগুলো যেন সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয় তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

এনডিটিভির তথ্যমতে, নতুন এই আইন অর্থাৎ ‘আসাম মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন (কম্পালসরি) রুলস, ২০২৬’ মূলত ‘আসাম কম্পালসরি রেজিস্ট্রেশন অব মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর অধীনে নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে বাধ্যতামূলক করেছে। এটি ১৯৩৫ সালের পুরোনো একটি আইনকে প্রতিস্থাপন করল, যেখানে মূলত ঐচ্ছিক বা স্বেচ্ছাধীন নিবন্ধনের বিধান ছিল—যদিও ২০১০ সালের একটি সংশোধনীতে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের নতুন এই আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যেকোনো মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের বিধান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, বিয়ের সময় কনের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বরের বয়স অন্তত ২১ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া নিবন্ধনের ক্ষমতা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুসলিম কাজিদের হাত থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণভাবে সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তাদের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিকে একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করা হলো।

২০২৪ সালের আইন অনুযায়ী, বিবাহ নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার সময় পরিচয়পত্র, বয়স ও বাসস্থানের উপযুক্ত প্রমাণ এবং দম্পতির নিজ স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার আগে জনসমক্ষে নোটিশ জারি এবং ৩০ দিনের একটি আপত্তির সময়সীমার বিধানও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এতে আইনগত বয়স, উভয় পক্ষের মুক্ত সম্মতি এবং নিষিদ্ধ সম্পর্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।