...|...|...

সোশ্যাল মিডিয়া

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন নিয়ে আলেমদের নীরবতা কেন, প্রশ্ন আসিফ নজরুলের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৬:৩৯ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১২
Shares
মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন নিয়ে আলেমদের নীরবতা কেন, প্রশ্ন আসিফ নজরুলের

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসায় শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান না নিলে সামগ্রিকভাবে আলেম সমাজের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল।

পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের আলেম সমাজে অনেক শ্রদ্ধেয় ও মানবিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। হজ পালন, নামাজ আদায় কিংবা ইসলামী আলোচনা শুনতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজনকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। মাওলানা আহমাদুল্লাহর মতো কিছু আলেমের মানবিক কর্মকাণ্ডও তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।

তবে তাঁর অভিযোগ, বৃহত্তর আলেম সমাজের কিছু মানুষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও বিষয়টি উপেক্ষা করার মতো নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ নজরুলের প্রশ্ন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে আলেম সমাজের অনেকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। কোনো কোনো ঘটনায় কঠোর অবস্থানও দেখা যায়। কিন্তু মাদ্রাসায় শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে নেতৃস্থানীয় আলেম, জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা ও শিক্ষকেরা কেন একইভাবে সোচ্চার হন না?

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আলেম সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিজেদের পরিসরে শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান না নিলে এবং অপরাধীদের প্রতি কেউ কেউ সহানুভূতি দেখালে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো আলেম সমাজের ওপর পড়তে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলো এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন সাবেক আইন উপদেষ্টা।

পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেন, আলেম সমাজের নেতৃত্ব এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নেবে। ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানাবে তারা।