ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার মুখাবয়ব ব্যবহার করে দেবী দুর্গার প্রতীকী ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে তাকে নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে ২২টি বিষয় তুলে ধরে একটি পোস্ট দেন এই সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ, অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রসঙ্গ ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তার বক্তব্যে উঠে আসে ঘুষ, ধর্ষণ, হত্যা, নারীর প্রতি সহিংসতা, প্রতারণা, দুর্নীতি ও ধর্মের অপব্যবহারের মতো বিষয়।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১. বলাৎকারে ধর্ম যায় না, ২. ঘুষ খেলে ধর্ম যায় না, ৩. শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতনে ধর্ম যায় না, ৪. মানুষ খুনে ধর্ম যায় না, ৫. নারীর ওপর সহিংসতায় ধর্ম যায় না, ৬. নারীকে কুৎসিত অপবাদ দিলে ধর্ম যায় না, ৭. অন্যের সম্পদ লুট করলে ধর্ম যায় না, ৮. প্রতারণা আর মানুষ ঠকালে ধর্ম যায় না, ৯. সারাবেলা মিথ্যার চাষে ধর্ম যায় না, ১০. নোংরামি করে ধরা পড়ে মুতা বিয়া বললে ধর্ম যায় না, ১১. মুনাফেকিকে জীবনের মূল মন্ত্র বানালে ধর্ম যায় না, ১২. ধর্মকে ব্যবসা বানালে ধর্ম যায় না, ১৩. বোনের হিস্যা ভাই মারলে ধর্ম যায় না, ১৪. বাবা মাকে বৃদ্ধ বয়সে ভাগাড়ে ফেললে ধর্ম যায় না, ১৫. অন্যের হক মেরে খেলে ধর্ম যায় না, ১৬. মিথ্যার বেসাতিতে ধর্ম যায় না, ১৭. ধর্মকে ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম যায় না, ১৮. ওজন বা মাপে কম দিলে ধর্ম যায় না, ১৯. খাদ্যে ভেজাল এমন কি বিষ মেশালেও ধর্ম যায় না, ২০. ব্যভিচারে ধর্ম যায় না, ২১. দুর্বলের ওপর অত্যাচারে ধর্ম যায় না, ২২. দুষ্টের লালন পালনে ধর্ম মজবুত হয়।’
পোস্টের শেষে রুমিন ফারহানা লেখেন, ‘ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।’
এদিকে, তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেবী দুর্গার প্রতীকী ছবিটিও নিজের পোস্টে শেয়ার করেন তিনি। ছবির বিষয়ে বিশেষ দ্রষ্টব্যে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।’
এর আগে ছবিটি ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা লিখেছিলেন, ‘ছবিটি কেউ একজন তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে যাতে বিভাজন আর ঘৃনা উসকে দেওয়া যায়’।


