ই-মেইল, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে হাতে লেখা চিঠি যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে জাপানে চিঠি লেখার সংস্কৃতি এখনো নানা আয়োজনের মাধ্যমে টিকে আছে। এর মধ্যে ভবিষ্যতের নিজের কাছে চিঠি লেখার মতো একটি বিশেষ কার্যক্রমও দেখা যায়, যেখানে শিশুরা নিজেদের স্বপ্ন, আশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা লিখে রাখে।
এ ধরনের চিঠিতে শিশুরা বড় হয়ে কী হতে চায়, ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চায় কিংবা বর্তমান জীবনের কোন বিষয়গুলো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ—সেসব লিখতে পারে। নির্দিষ্ট সময় পর চিঠিটি আবার পড়ার সুযোগ হলে বর্তমানের সেই শিশুটি নিজের পুরোনো চিন্তা ও স্বপ্নের সাথে নতুন করে পরিচিত হয়। জাপানে ভবিষ্যতের নিজের কাছে চিঠি লেখার এমন ব্যক্তিগত ও শিক্ষামূলক আয়োজনের উদাহরণও রয়েছে।
এই চর্চার মূল আকর্ষণ হলো নিজেকে নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করা। ভবিষ্যতের নিজের কাছে চিঠি লিখতে গিয়ে একটি শিশু তার লক্ষ্য, ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে চিন্তা করে। কয়েক বছর পর চিঠিটি পড়ার সময় সে বুঝতে পারে, তার চিন্তাভাবনা কতটা বদলেছে, কোন স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এবং কোন লক্ষ্য এখনো রয়ে গেছে।
চিঠি লেখার এই সংস্কৃতির সাথে জাপানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে প্রতি মাসের ২৩ তারিখ ‘ফুমি নো হি’ বা লেটার রাইটিং ডে হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ সাল থেকে দিনটি চিঠি লেখার আনন্দ ও সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার সাথে যুক্ত। ২৩ জুলাইকে বিশেষভাবে ‘ফুমিজুকি ফুমি নো হি’ বলা হয়।
জাপান পোস্টও চিঠি লেখার সংস্কৃতি ধরে রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আয়োজন করে থাকে। ফলে দ্রুতগতির ডিজিটাল যোগাযোগের মধ্যেও হাতে লেখা চিঠি সেখানে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায় হিসেবেও গুরুত্ব পায়।
ভবিষ্যতের নিজের কাছে লেখা একটি চিঠি তাই শুধু কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়। সময় পেরিয়ে সেটি হয়ে উঠতে পারে নিজের পরিবর্তন, স্বপ্ন ও শৈশবকে ফিরে দেখার একটি সুযোগ। আজকের লেখা সেই ছোট্ট চিঠিই হয়তো বহু বছর পর একজন মানুষকে মনে করিয়ে দেবে—একসময় তারও কিছু স্বপ্ন ছিল, আর সেই স্বপ্নগুলো নিয়ে সে নিজেকেই চিঠি লিখেছিল।


