...|...|...

বিশ্ব

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাজ্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৪৩
Shares
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং ভারত—এই চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত অথবা আরও কঠোর স্ক্রিনিং বা যাচাই-বাছাই পদ্ধতি চালু করেছে। কঠোর ছাত্র ভিসা কমপ্লায়েন্স বা অভিবাসন নিয়ম নীতিমালার কারণে স্পন্সরশিপ লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

খামা প্রেস এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে অধ্যয়নের জন্য জমা দেওয়া ভিসা আবেদন নাটকীয়ভাবে প্রত্যাহার বেড়ে যাওয়ার পর এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশঙ্কা, ভিসা প্রত্যাখ্যান বা আবেদন বাতিলের হার বেড়ে গেলে তা হোম অফিসের নির্ধারিত সীমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এই পদক্ষেপগুলো একেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একেক রকম এবং নির্দিষ্ট এই চার দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো সামগ্রিক বা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর হোম অফিসের তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য জমা পড়া ভিসার আবেদনগুলোর ১০ দশমিক ৫ শতাংশই প্রত্যাহার করা হয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানে—৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ, নাইজেরিয়ায় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ভারতে ৫ দশমিক ২ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলো মূলত ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের, কোনোভাবেই ভিসা প্রত্যাখ্যান বা রিজেকশনের হার নয়।

গত ১ জুন, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া হোম অফিসের ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’-এর নিয়মে পরিবর্তনের ফলেই মূলত এই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। সংশোধিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের ছাত্র ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে, স্পন্সরকৃত শিক্ষার্থীদের অন্তত ৯৫ শতাংশের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ কোর্স সমাপ্তির হার বজায় রাখতে হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের জুন থেকে এই সমাপ্তির হার বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই শর্তগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, তারা কমপ্লায়েন্স অ্যাকশনের মুখে পড়তে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পন্সর করার লাইসেন্স হারাতে পারে। এই লাইসেন্স হারালে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভিসা রুটের অধীনে নতুন কোনো আবেদনকারীকে স্পন্সর করতে পারবে না। এছাড়া সংশোধিত এই মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কমপ্লায়েন্স বা নিয়মানুবর্তিতা প্রদর্শনের জন্য লাল, হলুদ ও সবুজ এই তিন ধরনের রেটিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মতে, রিক্রুটমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড বা ভর্তি মান শক্তিশালী করতে এবং আশ্রয়প্রার্থী বা অবৈধ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ছাত্র ভিসার অপব্যবহার রোধ করতেই এই কঠোর নিয়মগুলো করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর উচ্চশিক্ষা খাতের আয়ের বড় অংশ নির্ভরশীল থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একদিকে যেমন স্পন্সরশিপের মর্যাদা রক্ষা করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি অব্যাহত রাখার চাপে রয়েছে।

ঝুঁকি এড়াতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে অথবা ভর্তির প্রস্তাব ও স্পন্সরশিপ ডকুমেন্ট বা সিএএস ইস্যু করার আগে আরও অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই যুক্ত করেছে। এই বিধিনিষেধগুলো প্রতিষ্ঠান, কোর্স এবং ইনটেক বা সেশনের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে। ফলে আবেদনকারীদের যোগ্যতা কেবল তাদের জাতীয়তার ওপর নয়, বরং তাদের নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির ওপর নির্ভর করছে।

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা যেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে জেনে নেন যে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, তাদের কাঙ্ক্ষিত সেশনের জন্য স্পন্সরশিপ পাওয়া যাবে কি না এবং কী ধরনের নথিপত্র প্রয়োজন। বর্তমান এই কড়াকড়ির ফলে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে যেসব দেশের আবেদন প্রত্যাহারের হার বেশি সেখান থেকে আবেদনকারীদের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।