...|...|...

বিশেষ প্রতিবেদন

ঢাকার পথেই ফুরায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ স্ট্রোকে বাড়ছে অকাল মৃত্যু

আল জুবায়ের বাদশা
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৫
Shares
ঢাকার পথেই ফুরায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ স্ট্রোকে বাড়ছে অকাল মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

দেশে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা। রাজধানীর বাইরে জেলা বা মফস্বল পর্যায়ে স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত বিশেষায়িত সেন্টার না থাকায় জীবন বাঁচাতে রোগীদের ছুটতে হয় রাজধানীতে। আর এই দীর্ঘ যাতায়াত ও জ্যামের জাঁতাকলে ফুরিয়ে যায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় ‘গোল্ডেন আওয়ার’। ফলে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন বহু মানুষ কিংবা বেঁচে থাকছেন স্থায়ী পক্ষাঘাত নিয়ে।

অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ- হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, একপাশের হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার পর সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পৌঁছে ইনট্রাভেনাস থ্রম্বোলাইসিস ইনজেকশন কিংবা আধুনিক মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি সেবা দেওয়া সম্ভব হলে পক্ষাঘাত ও মৃত্যুঝুঁকি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

ঢাকার একক নির্ভরতা ও মফস্বলের শূন্য চিত্র

বাংলাদেশে সরকারি খাতে স্ট্রোকের সর্বাধুনিক চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্সেস ও হাসপাতাল। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নিউরোলজি সেবা রয়েছে। তবে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে অর্ধেকের বেশি জেলা সদর হাসপাতালে কোনো ডেডিকেটেড স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট নেই। এতে, দূরবর্তী জেলার মানুষগুলো সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কুষ্টিয়া থেকে স্ট্রোক আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে ঢাকায় আসা ছেলে ফাহিম ইসলাম বলেন, “বাড়িতে স্ট্রোক করার পর স্থানীয় হাসপাতালে নিই। সেখান থেকে চিকিৎসকরা জানান, সিটি স্ক্যান ও নিউরোলজিস্ট ঢাকায় ছাড়া মিলবে না। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পার হয়ে যায়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, গোল্ডেন আওয়ার পার হয়ে যাওয়ার কারণে বাবার এক পাশ স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গেছে।” 

এই চিত্র শুধু রফিকুলের পরিবারের নয়; দেশের গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার সিংহভাগ স্ট্রোক রোগীর গল্পই প্রায় একই। এমন বাস্তবতায় আজ ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এবার এবছরের প্রতিপাদ্য হলো ‘প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ’। 

তরুণদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক বাড়ছে ঝুঁকি

সাধারণত স্ট্রোককে বয়স্কদের ব্যাধি মনে করা হলেও বর্তমানে চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিমাত্রায় ফাস্টফুড গ্রহণ, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে ৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মোট স্ট্রোক আক্রান্তের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই অপেক্ষাকৃত তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। এর ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো।

আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে চেনার জন্য FAST শব্দটি ব্যবহার করা হয়—যেখানে F-এ Face বা মুখ বেঁকে যাওয়া, A-এ Arm বা হাত দুর্বল বা অবশ হওয়া, S-এ Speech বা কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং T-এ Time বলতে ১ সেকেন্ডও দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ছোটানোর কথা বোঝানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা না থাকায় অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ঝাড়ফুঁক বা স্থানীয় সাধারণ ফার্মেসির ওষুধ খাইয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হয়।

বিশ্ব ও জাতীয় পরিসংখ্যানে স্ট্রোকের ভয়াবহ চিত্র

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যেসব রোগী মারা যান তার মধ্যে ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশই মারা যান স্ট্রোকে। দেশে প্রতিবছর স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর হার প্রতি লাখে ৫৫ জন। বাংলাদেশে প্রায় ১.১৪ শতাংশ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ শতাংশে। 

আশঙ্কাজনক বিষয় হলো এখন ৪০ বছরের নিচের তরুণরাও স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন, যার হার প্রায় ০.৪৬ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে স্ট্রোক অন্যতম এবং স্ট্রোক-পরবর্তী অক্ষমতায় প্রায় ৩৯.৪ শতাংশ মানুষ ভোগেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডিসলিপিডেমিয়া ও ধূমপানকে স্ট্রোকের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী চিত্র আরও উদ্বেগজনক। বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রথমবারের মতো স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মোট স্ট্রোকের ৮৯ শতাংশই ঘটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতি মিনিটে ১.৯ মিলিয়ন মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ (নিউরন) মারা যায়। 

বর্তমানে বিশ্বে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ স্ট্রোকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে ভুগছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য সচেতন থাকলে ৯০ শতাংশ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া গেলে রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের জরুরি করণীয় ও সমাধান

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্সেস ও হাসপাতালের স্ট্রোক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কেবল রাজধানীতে শয্যাসংখ্যা বা সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্ট্রোক চিকিৎসা সামলানো সম্ভব নয়। এই সংকট উত্তরণে প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা সদর সরকারি হাসপাতালে অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার সিটি স্ক্যান সুবিধাসহ প্রাথমিক স্ট্রোক কুইক-রেসপন্স সেল গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি মফস্বলের চিকিৎসকদের থ্রম্বোলাইসিস ইনজেকশন দেওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে রোগী ঢাকায় আসার আগেই গোল্ডেন আওয়ারের সেবা স্থানীয় হাসপাতালেই পেয়ে যান।

বিভাগীয় ও জেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা বাড়ানো এবং অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে দ্রুত থ্রম্বোলাইসিস ইনজেকশন সরবরাহের সরকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এছাড়া জাতীয় গণমাধ্যম ও তৃণমূল পর্যায়ে FAST লক্ষণ সংক্রান্ত জোরালো সচেতনতামূলক অভিযান চালাতে হবে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উদ্যোগে নীতিগত পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক হাসপাতালগুলোকে স্ট্রোক সেবায় সক্ষম করে তোলাই পারে হাজার হাজার মানুষকে পক্ষাঘাত ও অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে।

এবিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসপাতালের মেডিসিন ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী ইসমাইল হোসেন টাইমস টুডেকে বলেন, অতীতে আমাদের দেশে ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা ও পোলিওর মতো সংক্রামক রোগের প্রকোপ অনেক বেশি ছিল। তখন মানুষের জীবনযাত্রার ধরন ছিল ভিন্ন; পর্যাপ্ত খাবার না মিললেও মানুষের কায়িক পরিশ্রম ও হাঁটাচলার অভ্যাস ছিল অনেক বেশি। 

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আমাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং এর ফলে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও স্থূলতা (ওবেসিটি) আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এর হাত ধরে বর্তমানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন), কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং থাইরয়েডের মতো অসংক্রামক রোগগুলো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি এবং সচেতনতার ঘাটতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অলস জীবনযাপন এবং হাঁটাচলার অভাবের কারণে বর্তমানে স্ট্রোকের ঝুঁকি দিন দিন মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে। যদি জীবনযাত্রার এই ধরন পরিবর্তন করা না হয়, তবে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ কিংবা থাইরয়েডের মতো কো-মরবিডিটিগুলো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। 

অথচ সাধারণ মানুষ এমনকি অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা ও দূরদর্শিতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। বড়বড় শহরগুলোর সক্ষমতা থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে জরুরি বিভাগে কাজ করা চিকিৎসকদের এ বিষয়ে আরও বেশি দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন।

প্রতিরোধ ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অসংক্রামক রোগগুলোকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। গণমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সংবেদনশীল করে তুলতে হবে।

ডা. কাজী ইসমাইল আরও বলেন, স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসায় ‘থ্রম্বোলাইসিস’ বা রক্ত জমাট বাঁধার চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর, যেখানে ওষুধের মাধ্যমে ব্লক হয়ে যাওয়া রক্তনালী গলিয়ে দেওয়া হয়। উন্নত বিশ্বে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৮-৯ ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে ‘মোবাইল স্ট্রোক ইউনিট’-এর মাধ্যমে রোগীর বাড়ি গিয়েও তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও এই আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা ব্যাপকভাবে চালু করা প্রয়োজন।

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জরুরি বিভাগ, আইসিইউ এবং স্ট্রোক ইউনিটে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে (গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে) সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে পারলে একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। 

তাই স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি এড়াতে এবং অসংক্রামক রোগগুলো প্রতিরোধ করতে হলে সঠিক জীবনধারা অনুসরণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শুরু থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

ঢাকার ওপর নির্ভরতা কমানো

দেশে স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও ঢাকাকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও মফস্বলে বিশেষায়িত সেবার অভাবে জীবন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্ট্রোকের চিকিৎসায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ (সাড়ে চার ঘণ্টা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘ যাতায়াত ও যানজটে সেই সময় পথেই ফুরিয়ে যায়। এই সংকট থেকে উত্তরণে স্ট্রোক চিকিৎসাকে জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। 

টাইমস টুডেকে তিনি বলেন, প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা সিটি স্ক্যান সুবিধাসহ ডেডিকেটেড স্ট্রোক ইউনিট বা কুইক-রেসপন্স সেল গড়ে তুলতে হবে এবং স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকদের থ্রম্বোলাইসিস ইনজেকশন দেওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে রোগী ঢাকায় আসার আগেই স্থানীয়ভাবে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পান।

তিনি বলেন, পাশাপাশি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো ঝুঁকিগুলো কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ চেনার উপায় (FAST) সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাথে আঞ্চলিক হাসপাতালগুলোকে স্ট্রোক চিকিৎসায় সক্ষম করে তোলার মাধ্যমেই হাজার হাজার মানুষকে অকাল মৃত্যু ও পক্ষাঘাতের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।