মাথার ওপর তীব্র রোদ। চারপাশে গাড়ির শব্দ আর মানুষের ব্যস্ততা। এর মধ্যেই সড়ক বিভাজকের ফুলের ছবি তুলছিলেন এক পথচারী। মোবাইলের ক্যামেরা নামিয়ে তিনি বলছিলেন, এত শব্দ, এত ব্যস্ততার মধ্যেও ফুলগুলো যেন নিজেদের একটা নীরব জগৎ তৈরি করে রেখেছে। পাশে থাকা আরেকজন মন্তব্য করলেন, জায়গাটা তো এক টুকরো বাগানের মতো লাগছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার পৌর শহরের ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
আন্তঃজেলা বাস এসে থামছে বাসস্ট্যান্ডে। ঢাকাগামী কয়েকটি বাসও নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। যাত্রীরা কেউ বাস থেকে নামছেন, কেউ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন। সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলও থেমে নেই। ব্যস্ত সড়কের এই চেনা দৃশ্যের মাঝেই চোখ আটকে যায় সড়ক বিভাজকের ফুলে।
মৌলভীবাজার পৌর শহরের মধ্য দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক। মহাসড়কের মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল অংশের শহর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সড়ক বিভাজকে এখন এমনই রঙিন দৃশ্য। একই সাথে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। এর মধ্যে রাধাচূড়া ও কৃষ্ণচূড়াই বেশি নজর কাড়ে।
ডালে ডালে থোকা থোকা ফুল। কোথাও লাল, কোথাও হলুদ, কোথাও বেগুনি। সবুজের ভেতর থেকে উঁকি দেওয়া এসব ফুল ব্যস্ত সড়কটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক আবহ।
এই সৌন্দর্য অবশ্য এক দিনে তৈরি হয়নি। জানা গেছে, সড়ক বিভাজকে পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও বিভিন্ন সময়ে ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে।
পরিবেশকর্মী সোনিয়া মান্নান বলেন, শহরের ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে এ ধরনের ফুলের গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের সাথে প্রকৃতির একটি নীরব যোগাযোগও তৈরি করে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, কোলাহলের শহরে সৌন্দর্যের জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না। কিছু গাছ, একটু যত্ন আর বেড়ে ওঠার মতো একটু জায়গাই যথেষ্ট।
কবি জাহাঙ্গীর জয়েস বলেন, যারা সড়ক বিভাজকে ফুলের গাছ রোপণ করেছেন এবং যত্ন নিয়েছেন, গাছগুলো যেন তাদের সেই যত্নেরই প্রতিদান দিচ্ছে।


