যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের হুংকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাকে অভিশংসন বা ক্ষমতাচ্যুত করার যেকোনো উদ্যোগ নিলে তার চরম রাজনৈতিক মূল্য ডেমোক্র্যাট পার্টিকেই পরিশোধ করতে হবে এবং দলটি নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর হোয়াইট হাউজে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে আলাপকালে ডেমোক্র্যাটরা তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সম্পূর্ণ নির্ভার ও আত্মবিশ্বাসী সুরে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, না, না, না—একটুও না। আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস, তারা যদি এমন কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে ডেমোক্র্যাট পার্টিই চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।
ট্রাম্প আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কেন তারা অভিশংসনের পথে হাঁটবে? একটি সফল রাষ্ট্র পরিচালনার অপরাধে? আমাদের দেশ তো বর্তমানে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সফল ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
কংগ্রেসে সহযোগিতার হাত নাকি ভেটো ক্ষমতা
অবশ্য এর মাঝেই কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক বা অযৌক্তিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকে, তবে তাদের সাথে প্রশাসনের সুসম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। তবে তার প্রশাসনের কাজে বা নীতি বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেবে, সে বিষয়েও আগাম ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। এ সময় নিজের সাংবিধানিক ‘ভেটো’ ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কংগ্রেসে ক্ষমতার পালাবদল
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরণের ধাক্কা খাওয়ার ফলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে চলে যাচ্ছে। অথচ নির্বাচনের আগপর্যন্ত কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলস্বরূপ, দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হাতে পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রমে কড়া নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুবর্ণ সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। একই সাথে প্রশাসনের বিতর্কিত নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংসদীয় তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পেশি শক্তি ব্যবহার করে ট্রাম্পের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা আটকে দেওয়ার রাস্তা সুগম হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের ক্ষমতার এই বিপরীতমুখী অবস্থান আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়ন ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আর ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য অভিশংসন হুমকি নিয়ে ট্রাম্পের এই আগাম হুঁশিয়ারি মূলত ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে দুই দলের মধ্যকার আসন্ন তীব্র ও রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াইয়েরই পূর্বাভাস দিচ্ছে।


