...|...|...

খুলনা

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে খুলনা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৫ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৯
Shares
ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে খুলনা

ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭২ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন শতাধিক রোগী। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্ষাকাল অব্যাহত থাকায় এবং এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৯০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৩৬০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে।

সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে খুলনা জেলার হাসপাতালগুলোতে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা সদর হাসপাতাল এবং জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অধিকাংশ রোগী জ্বরের কয়েকদিন পর হাসপাতালে আসছেন। ফলে অনেকের শরীরে প্লাটিলেট কমে যাওয়াসহ জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগেরহাটে, এরপর খুলনা, ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্ষার কারণে জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টি, জমে থাকা পরিষ্কার পানি, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা এবং এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার ঘাটতি সব মিলিয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে কয়েকদিন বাসায় থাকছেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে আসছেন। এতে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। এবারও সেই আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।

খুলনা বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মোবারক হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে শুধু চিকিৎসা নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

খুলনা সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন এলাকায় লার্ভা ধ্বংস, ফগিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছে, শুধু হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়। রোগ প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ষার বাকি সময়টুকুতে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।