সর্বজনীন জ্বালানি ভর্তুকি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণের পথ থেকে সরে এসে সুনির্দিষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ রাজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এটি বাস্তবায়ন করা না হলে মূল্যস্ফীতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে 'এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিনাল ইকোনমিক আউটলুক' নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ এই তথ্য জানিয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তৈরি জ্বালানি সংকট, এআইচালিত প্রযুক্তির প্রসার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পুনর্গঠন—এই তিন বিষয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি নির্ধারণ করছে।
তিনি জানান, চলতি ২০২৬ সালে অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কিছুটা বাড়লেও তা দেশভেদে বেশ অসম। ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে। সেমিকন্ডাক্টর ও এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে চীন, ভারত, কোরিয়া ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতিগুলো ঘুরে দাঁড়ালেও নিম্ন-আয়ের ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলো উচ্চ জ্বালানি, সার ও বিদ্যুতের দামের কারণে চরম সংকটে পড়েছে।
আইএমএফের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘায়িত হতে পারে। পাশাপাশি 'এল নিনো'র মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ খাদ্য ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেওয়ার ঝুঁকিতে রাখছে।
সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে হবে। একই সাথে রাজস্বনীতিতে ঢালাও সুরক্ষা না দিয়ে কেবল সুবিধাবঞ্চিত বা দুর্বল পরিবারগুলোকে আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার ওপর তাগিদ দিয়েছে আইএমএফ।


