গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুরুষ পরিচয়ে এক তরুণীকে বিয়ে করে প্রায় পাঁচ মাস সংসার করার অভিযোগ উঠেছে আরেক তরুণীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিশে অভিযুক্ত তরুণীকে বেত্রাঘাত, মারধর ও কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে তওবা পড়ানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বরিশাল গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ওই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
কাবিননামা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহিম খলিলের মেয়ে চাঁদনী আক্তার নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘রাসেল’ নাম ধারণ করেন। পরে গত ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে আদালতের এফিডেভিট ও কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন তিনি। এরপর দুজন প্রায় পাঁচ মাস একসাথে বসবাস করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরে তাদের দুজনই নারী বলে বিষয়টি সামনে আসে। নিজেদের সম্পর্ক আড়াল করা এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে চাঁদনী নাম-পরিচয় বদলে বিয়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। বিষয়টি প্রথমে চাঁদনীর বাবা জানতে পারেন। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
এ ঘটনার পর শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয়দের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে। এতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকে লাবনীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং দুজনের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।
সালিশে উপস্থিত হাসান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, বৈঠকের একপর্যায়ে লোকজনের সামনে বাঁশের কঞ্চি বা বেত দিয়ে চাঁদনীকে মারধর করা হয়। তাকে কান ধরে উঠবসও করানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শার্ট-প্যান্ট না পরার নির্দেশ দেন সালিশের বিচারকেরা। এ সময় চাঁদনী নিজের ভুল স্বীকার করে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চান।
ঘটনার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুই তরুণী বিয়ে করে সংসার করছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে সালিশ বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তার আগে জানা ছিল না। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই তিনি প্রথম বিষয়টি শুনেছেন।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরোয়ার আলম খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


