...|...|...

জাতীয়

চীনের ৪ বৈশ্বিক উদ্যোগে ঢাকার সবুজ সংকেত, ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

টাইমস টুডে ডেস্ক
আপডেট: ২ দিন আগে
চীনের ৪ বৈশ্বিক উদ্যোগে ঢাকার সবুজ সংকেত, ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

ছবি: সংগৃহীত

চীনের বহুল আলোচিত চার বৈশ্বিক উদ্যোগে সাড়া দিতে যাচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এই সবুজ সংকেত মেলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে দেশের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মূলত টেকসই উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সভ্যতা ও সুশাসন- এই চার স্তম্ভকে সামনে রেখে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান বেইজিং সফরেই এই চার উদ্যোগে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তিন দিনের সরকারি সফরে চীন পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল’ রয়েছে, তাকে কাউন্টার করতেই মূলত চীন এই প্ল্যাটফর্মগুলো তৈরি করেছে বলে মত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। প্রায় পাঁচ বছর আগেই এই উদ্যোগে শামিল হতে ঢাকাকে প্রস্তাব দিয়েছিল বেইজিং। তবে দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতার মাঝে এতদিন এক ধরনের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি বজায় রেখে আসছিল বাংলাদেশ। তবে বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ফলপ্রসূ উদ্যোগে অংশ নিতে প্রস্তুত বর্তমান সরকার।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, চীনের এই জোটে যোগ দিলে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন তৈরি হবে কি না। তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, এতে উদ্বেগের কিছু নেই। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ডেভলপমেন্ট বা সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভগুলোর সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত রূপ দেওয়া বেশ জটিল। তাই এগুলোতে যোগ দিলে চীন খুশি হলেও বাংলাদেশের বড় কোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত ক্ষতি বা বড় দায়ের ঝুঁকি নেই।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওবায়দুল হকের মতে, চীন কীভাবে এগোচ্ছে এবং বাংলাদেশ তার কতটুকু গ্রহণ করবে- সেই সিদ্ধান্ত একান্তই ঢাকার। যদি ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপে কোনো দ্বিমত পোষণ করে, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কূটনীতিতে আলোচনার মাধ্যমেই অনেক জটিল সমীকরণ সহজ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফরের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।