অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) আরও এক মৌসুম খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। আসন্ন ১৬তম আসরের জন্য তাকে দলে রেখে দিয়েছে হোবার্ট হারিকেন্স। গত মৌসুমে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আস্থায় জায়গা ধরে রাখলেন এই বাংলাদেশি স্পিনার।
আগামী ১২ ডিসেম্বর শুরু হবে আট দলের বিগ ব্যাশ লিগের ১৬তম আসর। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রিশাদকে ধরে রাখার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে হোবার্ট হারিকেন্স। এবারের মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকেও দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ফলে আগামী আসরে একই দলের হয়ে জাম্পা ও রিশাদের একসাথে বোলিং করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হোবার্টের হয়ে প্রথম মৌসুমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন রিশাদ। গত আসরে ১২টি ম্যাচ খেলে ১৫ উইকেট নেন তিনি। তার বোলিং গড় ছিল ২০.৮৬ এবং ইকোনমি রেট ৭.৮২। ওই মৌসুমে হোবার্টের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও ছিলেন তিনি। ২৬ রানে ৩ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। ধারাবাহিক এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মৌসুম শেষে দলের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার।
রিশাদকে আবারও দলে পাওয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেছেন হোবার্ট হারিকেন্সের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের ম্যানেজার সালিয়ান বিমস। তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমে হোবার্টে সময়টা রিশাদের খুব ভালো কেটেছে এবং সে আবারও ফিরতে চায় বিষয়টি আমাদের কাছে আগেই পরিষ্কার করেছিল। আমাদের পরিকল্পনাতেও তার এই আগ্রহ অনেক প্রাধান্য পেয়েছে।’
দলে অ্যাডাম জাম্পার অন্তর্ভুক্তি এবং রিশাদের ভূমিকা নিয়ে বিমস আরও বলেন, ‘টিম কম্বিনেশনে জাম্পা যুক্ত হওয়ায় কিছু পরিবর্তন আনতেই হতো। তবে রিশাদের মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড় যখন ফিরতে এতটাই আগ্রহী, তখন সে সুযোগ আমরা হাতছাড়া করতে চাইনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাম্পা যেমন বিশ্বমানের, তেমনি গত মৌসুমে মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে তা সবাই দেখেছে। তাদের দুজনকে একসাথে পাওয়ায় আমাদের বোলিং আক্রমণে বাড়তি নমনীয়তা ও বৈচিত্র্য আসবে।’
বিগ ব্যাশে রিশাদের পথচলা অবশ্য শুরু হয়েছিল আরও আগে। টুর্নামেন্টের ১৪তম আসরের ড্রাফটে প্রথমবারের মতো তাকে দলে নিয়েছিল হোবার্ট। কিন্তু বিপিএলের ব্যস্ত সূচির কারণে তখন দলের সাথে যোগ দিতে পারেননি তিনি। পরে গত মৌসুমে ড্রাফটের মাধ্যমে আবারও তাকে দলে নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিষেক মৌসুমেই হোবার্টের হয়ে সব ১২ ম্যাচে খেলেন রিশাদ। দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দেখান তিনি। এবার তাকে ধরে রাখার পাশাপাশি জাম্পাকে দলে নেওয়ায় হোবার্টের স্পিন আক্রমণ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


