চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর আদনানুজ্জামান নিহাল (১৯) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি নিজের ফেসবুক স্টোরিতে একটি হৃদয়বিদারক বার্তা দিয়েছিলেন, যা ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে বাকলিয়া থানাধীন কালামিয়া বাজার এলাকার নিজ বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহাল পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আনিসুজ্জামানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন নিহাল। সোমবার ফল প্রকাশের পর তিনি পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্বজনদের ধারণা। মৃত্যুর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক স্টোরিতে তিনি লিখেছিলেন—
‘কি করে গর্ব হবে মা...! আজ দেখো সবাই সবার আব্বু আম্মুর মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছে, কিন্তু আমিই পারলাম না তোমাদের মুখে হাসি ফুটাইতে। আমি তোমাদের কিছুই দিতে পারিনি, শুধু ব্যর্থতা ছাড়া। তোমাদের কাছে আমি মাফ চাইতেছি, আমাকে মাফ করে দিও তোমরা।— ফেসবুক স্টোরি, ১০ আগস্ট ২০২৬
নিহতের চাচা শাখাওয়াত জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে নিহাল স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে যায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে কক্ষের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে নিচে নামানো হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দেয় নিহাল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, ‘পরীক্ষার ফলাফল জীবনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়। সন্তানদের মানসিক অবস্থা বোঝা, ব্যর্থতার সময় পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজন হলে মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


