সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি কণাও ইরানের বাইরে স্থানান্তরিত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের সাথে এক বৈঠকে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ইরানি বার্তা সংস্থা ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান অসীম মুনিরের সাথে বৈঠক করেন মোহসেন রেজাই। ওই বৈঠকে ইরানের সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানগুলোকে দেশের একটি বড় জাতীয় সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান যে, এগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্যই দেশের ভেতরেই থাকবে।
রেজাই আরও বলেন, এই জাতীয় ইস্যুটিতে ইরানের কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত আস্থা অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ না নিচ্ছে, ততদিন ওয়াশিংটনের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানের শর্ত পূরণই যে ওই প্রক্রিয়ার সূচনা বিন্দু হবে, সে কথাও জোরালোভাবে উল্লেখ করেন তিনি। একইসাথে ইরান ও পাকিস্তানের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
সীমান্ত পুর্নরায় সচল ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর
বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির জানান যে, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত ইতোমধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকালেই সীমান্ত পারাপার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া ৪০ দিন ব্যাপী যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতার উচ্চ প্রশংসা করেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান। পাশাপাশি কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।


