ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ১১নং আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ৯২ লাখ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর ফাঁকিসহ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অন্তত ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, টিআর-কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ ও খাদ্যশস্য কালোবাজারি, পরিবেশ দূষণ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ৩১ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক পত্রে চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে এই সুপারিশ জানান।
সরকারি নথি ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ব্যবহৃত ব্যাটারি পুড়িয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন এবং সিসার ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য গলিয়ে ইনগট উৎপাদনের দায়ে পরিবেশ অধিদফতরের ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রধান অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, অফিসে নিয়মিত না থাকায় এবং কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখার ফলে সাধারণ জনগণ জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদের মতো সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইউপি সদস্যদের প্রাপ্ত সম্মানী ভাতা যথাসময়ে না দেওয়া এবং এক সদস্যের কাজ অন্যকে দিয়ে করানোর অভিযোগ।
মৎস্য চাষ প্রকল্পে সরকারের প্রায় ৯২ লাখ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা, কাবিখা ও টিআর প্রকল্পের খাদ্যশস্য কালোবাজারি করে নিজের অটো রাইস মিলে স্থানান্তরের অভিযোগ এবং কোনো কাজ না করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে অর্থ উত্তোলনের জন্য জোরজবরদস্তি করা। উন্নয়ন কাজের বিল নিজে গ্রহণ ও নির্ধারিত ঠিকাদারদের কাজে বাধা প্রদান এবং স্থানীয় বিরোধ মেটানোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।
নিজ বাসা, মাছের খামার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি সুবিধা দিতে সরকারি রাস্তায় উন্নয়ন কাজের উদ্যোগ। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, তার নামে ৩১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ১২ টাকা ঋণখেলাপের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও, উপজেলা কৃষি অফিসারকে হুমকি প্রদান, বিএনপির হালুয়াঘাট পৌর শাখার পক্ষ থেকে জিডি দায়ের এবং ইতঃপূর্বেও সাবেক ইউএনও কর্তৃক তাকে বারবার অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সতর্কীকরণ পত্র দেওয়াসহ একাধিক নথিপত্র যুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগের কারণে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সরকারি প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তাকে দ্রুত সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


