কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী এক তরুণের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।
পিবিআই জানায়, ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী শাহাদাত খানের (২২) সাথে যোগাযোগ করেন টিটু। ওই পেজে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।
পরে নারীসুলভ কণ্ঠে ফোন ও ইমোর মাধ্যমে শাহাদাতের সাথে কথা বলে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে টিটুর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ জানান, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগমের ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাতের সাথে ফেসবুকে ওই পেজের মাধ্যমে টিটুর পরিচয় হয়। পরে ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলার মাধ্যমে তিনি সম্পর্কটি বজায় রাখতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের সময় প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার পর বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে পিবিআই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের পর ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনজুর রহমান বিভিন্ন তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান।
এরপর ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারের পর ২১ সেপ্টেম্বর টিটুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, তোফায়েল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে শাহাদাতের সাথে পরিচয়ের পর ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলে তিনি সম্পর্কটি বজায় রাখতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। শাহাদাতের মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।




