মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতা এখন তৃণমূল পর্যায়ে দলীয়করণ এবং লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বছরের পর বছর ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে দায়িত্ব পালনকারী ইমামদের জোরপূর্বক সরিয়ে দলীয় পরিচয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি লেখেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করায় তিনি প্রাথমিকভাবে তারেক রহমানকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। কারণ, গ্রাম পর্যায়ে অধিকাংশ মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা নামমাত্র পারিশ্রমিকে বা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে মসজিদে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের পক্ষে অন্য কোনো পূর্ণকালীন কাজ করা সম্ভব হয় না। সবার প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘদিনের ত্যাগী এই মানুষগুলোর কাছেই পৌঁছাবে রাষ্ট্রীয় এই সম্মানী।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে সারজিস অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতারা এখন পবিত্র মসজিদগুলোকেও দলীয়করণ ও লুটপাটের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে সম্মানীর আওতায় আনা হচ্ছে, সেসব জায়গা থেকে দীর্ঘদিনের সেবকদের চরমভাবে অপদস্থ করে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বদলে সেখানে সম্পূর্ণ দলীয় পরিচয়ে নতুন করে বিএনপিপন্থী ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি কাজ।
বিবৃতিতে সদ্য পদচ্যুত ও অপদস্থ হওয়া এক ইমামের কথা উল্লেখ করেন সারজিস। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, ওই ইমাম তাকে ফোন করে তারেক রহমানের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। ওই ইমামের ভাষ্যমতে, ‘এই সম্মানী ভাতা এখন অনেক মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ এবং সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, একজন মজলুম ইমামের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ পুরো সমাজকে এই দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে, যার দায়ভার দুনিয়া ও আখিরাতে নেওয়ার সক্ষমতা কারও নেই।
অবিলম্বে এই হীন কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম সতর্ক করে বলেন, সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাই এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।


