...|...|...

ক্যাম্পাস

ইবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন সেই দোকানি

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৫০
Shares
ইবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন সেই দোকানি

ইবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন সেই দোকানি। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সিগারেটের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ‘ইবি মার্ট’ দোকানে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত দোকানি দোষ স্বীকার করে ভুক্তভোগীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। একইসাথে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর বিষয়ে লিখিত মুচলেকা দেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে শিক্ষার্থী জাহিদ শেখপাড়া বাজার যাওয়ার পথে দোকানি ইলিয়াসের থেকে দশ টাকার সিগারেট কেনেন। টাকা না দিয়েই একটা সিগারেট সেবন শুরু করেন। পরে নগদ টাকা না থাকায় অনলাইনে টাকা পরিশোধের কথা জানান ওই শিক্ষার্থী। তখন দোকানি তার কাছে অনলাইনে পরিশোধের মাধ্যম নেই বলে জানান। এসময় ওই শিক্ষার্থী পাশের দোকান (ইবি মার্ট) থেকে টাকা ধার নিতে যায়। এসময় ওই শিক্ষার্থীর পিছু নেয় দোকানি। 

জাহিদের দাবি, তখন তিনি দোকানদারের সম্মতি নিয়ে পাশের দোকানে ক্যাশ আউট করতে যান। তবে দোকানদারের অভিযোগ, জাহিদ তাকে না জানিয়েই বিল পরিশোধ না করেই চলে যেতে থাকে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাশের দোকান ‘ইবি মার্ট’ থেকে ১০ টাকা নিয়ে দোকানিকে দিতে গেলে পরক্ষণেই দোকানি এসে ওই শিক্ষার্থীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দোকানি ওই শিক্ষার্থীর কলার ধরে মারধর করে। এ সংক্রান্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনার বিচার দাবিতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেইটে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি দোকানির উপস্থিতিতে বিচারের বিষয়ে বৈঠকের আশ্বাসে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ভুক্তভোগী জাহিদ, বিভাগের সভাপতি, শিক্ষক ও আট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, অভিযুক্ত দোকানি, বাজার কমিটির প্রতিনিধি ও প্রক্টরিয়াল বডি বৈঠক করেন।

ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান বলেন, আমি ওই দোকান থেকে একটি ক্যামেল সিগারেট নিই। আমার কাছে নগদ টাকা ছিল না। তাই তাকে জিজ্ঞেস করি, নগদ অথবা বিকাশে মূল্য পরিশোধ করতে পারব কি না। তিনি জানান, তার নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট নেই। তখন আমি তাকে বলি, আমার বিকাশে টাকা আছে, আমি টাকা ক্যাশ আউট করে এনে পরিশোধ করছি। এরপর আমি ইবি মার্টে গেলে তিনি আমার কলার ধরে মারধর করেন। মারতে মারতে নিচে ফেলে দেন। এতে আমি আহত হই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়টি অবগতের বিষয়ে ভুক্তভোগী বলেন, এ ঘটনার পর বিষয়টি আশীর্বাদ, পিয়াস ভাইকে জানাই। পরে তারাসহ সাব্বির, ফাহিম বিষয়টি সমাধানের জন্য ওই দোকানির কাছে যায়। তবে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় ও শাহ আজিজুর রহমান হলের পকের গেইটে শিক্ষার্থীরা কখন, কার কথায় জড়ো হয়েছে তা আমি জানি না।

অভিযুক্ত খান স্টোরের দোকানি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ওই ছেলেটি ১০ টাকার সিগারেট নিয়ে সেবন করার পর বলে বিকাশে টাকা দেবেন। আমার বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট নাই। পরে পাশের দোকানে কর্মরত রং মিস্ত্রি তার বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধের পরামর্শ দেন। কিন্তু ছেলেটির নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা আছে জানায়। পরে চলে যাচ্ছে দেখে দাঁড়াতে বলি কিন্তু সে দৌড় দেয়। পরে তার পিছু ধরে এক দোকানে গিয়ে তাকে ধরি। আমি প্রথমে তাকে মেরেছি। কিন্তু সেও পরে আমাকে মারছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত দোকানিকে ভুক্তভোগীর নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অভিযুক্তকে ভবিষ্যতে কখনো কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির সাথে দুর্ব্যবহার বা হেনস্তার ঘটনা ঘটাবেন না বলে লিখিত মুচলেকা প্রদান করতে হবে। বাজার কমিটির সভাপতির নিকট থেকে আগামী শনিবারের মধ্যে প্রশাসনকে এই মর্মে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করবে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর সাথে কোনো দোকানি দুর্ব্যবহার ও হেনস্তা করবে না।

এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, উভয় পক্ষের সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্ত দোকানি তার দোষ স্বীকার করে ভুক্তভোগীর নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ও বাজার কমিটির প্রতিনিধি এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এছাড়া, অভিযুক্ত দোকানি ভবিষ্যতে কখনো কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির সাথে দুর্ব্যবহার বা হেনস্তার ঘটনা ঘটাবেন না বলে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেছেন।