আকাশপথ ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আগামী ১ অক্টোবর রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, একটি দেশ তাদের আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছিল। তবে রাশিয়া নতুন করে এই জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি দিয়েছে। আশা করছি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই এই জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।
আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী- ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারে আপত্তির কারণে সেটি আসতে পারেনি। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে ওই আপত্তি আর নেই। রাশিয়া নতুন করে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি দিয়েছে। ফলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের হয়ে বাংলাদেশের পিআর সংস্থা ট্রাইউইন গ্রুপ শুরু থেকেই প্রকল্পের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করে আসছে।
এই সংস্থার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, সাধারণত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে আসে। পরদিন সকালে জ্বালানিবাহী গাড়ি প্রকল্প এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এতে রাস্তাঘাটে যানজট থাকে না এবং প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যেতে সুবিধা হয়। এই হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১ অক্টোবর এই জ্বালানি দেশে পৌঁছাবে।
এর আগে রোসাটম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এয়ারস্পেস না পাওয়ায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী কার্গো বাংলাদেশে আসতে পারেনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জন্য জ্বালানি আসার কথা ছিল। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এই জ্বালানি গ্রহণের জন্য প্রস্তুতও ছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি আর আসেনি।
রোসাটমের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রূপপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, তাদের ফ্লাইটটি বিলম্ব হচ্ছে। এটি চলতি সপ্তাহে নাও আসতে পারে। পরবর্তী ফ্লাইট কবে আসবে, তা পরে জানানো হবে বলেও রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
যদিও প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালে হবে না, কারণ এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয় রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোসাটমকে লিখিতভাবে পরবর্তী জ্বালানিবাহী ফ্লাইট কবে নাগাদ আসতে পারে, তা জানাতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসবে। এ সময়ে মোট সাতটি ফ্লাইটে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার কথা। এর সাথে প্রথম ইউনিটের জন্য কিছু জ্বালানিও আসবে বলে গতকাল জানিয়েছেন রূপপুর প্রকল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরই মধ্যে ইউনিট-১-এর ফুয়েল রাশিয়া থেকে এনে তা লোড করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর প্রকল্পের আরও ফুয়েল আসার কথা ছিল। যদিও ইউনিট-২-এর ফুয়েল আগামী ৮ অক্টোবর আসার কথা।
এখানে দুই রকমের ফুয়েল আসবে। প্রথম ইউনিটে যে ফুয়েল লোড করা হয়েছে, এর সাইকেল টাইম হচ্ছে ১২ মাস। এই সময় পর এর একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হবে। এই অংশটি আবার পুনরুদ্ধার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এবারের প্রথম দুটি ফ্লাইটে ইউনিট-১-এর প্রথম রিলোড আসার কথা।
গত বৃহস্পতিবার এই ফুয়েল আসার কথা ছিল। আরেকটি আসার কথা অক্টোবরের ১ তারিখে। যেহেতু কাছাকাছি সময়ের মধ্যে আসছে, এ জন্য সাধারণভাবে ইউনিট-২-এর ফুয়েল আসছে- এমনটি বলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এয়ারস্পেসের যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে, এতে ধারণা করা যায় যে রাশিয়ার জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি রাশিয়া থেকে উড্ডয়নের পর বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে আসবে। আর এই জ্বালানি যেহেতু ইউরেনিয়াম, যা খুবই স্পর্শকাতর, হয়তো কোনো দেশ তার ওপর দিয়ে এই জ্বালানি নিয়ে যেতে রাজি হয়নি।


