...|...|...

বিশ্ব

ফিলিপাইন

সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি, ৩৪৩ কোটি টাকা জরিমানা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:২৭
Shares
সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি, ৩৪৩ কোটি টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

২০২২ সালে ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম গরুর মাংসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ওই সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অবৈধভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার দায়ে ছয়টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ১৭৬ কোটি পেসো বা প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকা) রেকর্ড জরিমানা করেছে দেশটির প্রতিযোগিতা কমিশন।

ফিলিপাইন কম্পিটিশন কমিশন জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, লাল ও হলুদ বা সাদা পেঁয়াজ আমদানি, কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘরে সংরক্ষণ এবং পাইকারি পর্যায়ে বিতরণের ক্ষেত্রে ‘অবৈধ বাজার বিন্যাস সিন্ডিকেটে’ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

কমিশনের ইতিহাসে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক জরিমানা। ২০২২ সালের শেষের দিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম অভূতপূর্বভাবে ৮০০ পেসো পর্যন্ত (আকাশচুম্বী) হওয়ার পর শুরু হওয়া এক দীর্ঘ তদন্তের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে। ওই সময় ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম মুরগির মাংসের দামের তুলনায় প্রায় তিন গুণ এবং গরুর মাংসের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি ছিল, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সিন্ডিকেটের কারসাজি যেভাবে ফাঁস হলো

প্রতিযোগিতা কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত একটি সদস্য প্রতিষ্ঠান অন্যদের শংসাপত্র বা ক্রডেনশিয়াল ব্যবহার করে পদ্ধতিগতভাবে স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি আমদানি ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করত। একই সাথে তারা ওই আমদানিকারকদরই পণ্য খালাসের প্রেরক হিসেবে যুক্ত করত, পারমিট বরাদ্দের ওপর নজরদারি চালাত এবং সামগ্রিক চালানের সমন্বয় করত।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন করপোরেট সত্তার নামে পারমিট সংগ্রহ করার মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ২০২০ ও ২০২১ সালে লাল এবং হলুদ পেঁয়াজ আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড়পত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। পরবর্তীতে আমদানিকৃত সেই পেঁয়াজগুলো কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখান থেকেই সারা দেশে তা সরবরাহ করা হতো।

ব্লুমবারগের বরাতে পিসিসির নির্বাহী পরিচালক কেনেথ তানাতে, সর্বোচ্চ জরিমানা আরোপের মাধ্যমে কমিশন অর্থনীতির প্রতিটি খাতের সিন্ডিকেটগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং ক্ষতিকর ও প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা পুনর্ব্যক্ত করছে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, প্রতিযোগিতা আইন অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে ফৌজদারি দায় বা কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন, যার ফলে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের পৃথক কারাদণ্ড ও অতিরিক্ত জরিমানাও হতে পারে।