রাজধানীতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মোড়লের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিচারক অপরাধ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশটি শেরে বাংলা নগর থানায় আসে।
নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।
গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ২০ আগস্ট দুপুরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মামলা করেন। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মোড়লকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
অন্য আসামিরা হলেন- পিচ্চি রাকিব, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, পিচ্চি জুয়েল, মনির হোসেন, মনির হোসেন শান্ত, পাপ্পু, আসাবুর রহমান, লিমন, মামা সাইফুল, সোহেল, সুজন ওরফে কালা সুজন, আল আমিন, ছোট ফেরদৌস, জাফর, জসিম, ইমরান, খাইরুল, ইমরান হোসেন বায়েজিদ, উজ্জল, জীবন ও ফেরদৌস।
এজাহারে ভুক্তভোগীর স্ত্রী শিরিন আক্তার উল্লেখ করেন, তার স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল একজন ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে ১ নম্বর আসামি জাহিদ হোসেন মোড়ল তার স্বামীর ওপর পূর্ব থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাকে শায়েস্তা ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে জাহিদ মোড়ল অন্যান্য আসামির সাথে যোগসাজশ ও পরিকল্পনা করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল অবস্থানকালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ১ নম্বর আসামি জাহিদ হোসেন মোড়লের নির্দেশে অন্য আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা সামুরাই, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে রাসেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে ৬ নম্বর আসামি মনির হোসেন শান্ত তার হাতে থাকা সামুরাই দিয়ে রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লক্ষ্য করে কোপ দেন। প্রাণরক্ষার্থে রাসেল ডান হাত দিয়ে সেই কোপ প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সামুরাইয়ের আঘাত তার ডান হাতের কনুইয়ে লাগে। এতে সেখানে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। এ সময় ৭ নম্বর আসামি পাপ্পু তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে রাসেলের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
রাসেল ওই আঘাত বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে তার বাম হাতের তিনটি আঙুলে চাপাতির আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত কাটা জখম হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অন্য আসামিরাও রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের হাতে থাকা চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ ও আঘাত করে জখম করেন। রাসেল ডাক-চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তখন আসামিরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


