একদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ২৫ বছর বয়সী এক নারী, অন্যদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বজনদের কান্না আর আহাজারি। প্রিয়জনকে বাঁচানোর শেষ আশায় হাসপাতালে ছুটে এসেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিকিৎসক জানান, বেঁচে নেই খুশি। দুই সন্তানের মাকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। আর হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নিহতের ভাই ও পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন জিন্নাপাড়া বউবাজারের সাত নম্বর গলিতে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন খুশি (২৫)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সুমন সরদারের স্ত্রী। তাদের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকেই সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। কেন খুন হতে হলো খুশিকে? কারা তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে? এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কি মাদকসংক্রান্ত বিরোধ, নাকি রয়েছে অন্য কোনো কারণ? আর স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুলিশ থাকা সত্ত্বেও কেন দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়নি? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে আহাজারি করতে করতে নিহত খুশির মা অভিযোগ করেন, তার চোখের সামনেই মেয়েকে ডেকে নিয়ে গুলি করে সন্ত্রাসীরা।
মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়া মা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আহাজারি করেন। তার এই অভিযোগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও হামলাকারীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহত খুশির ভাই ও অন্য স্বজনেরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশের গাড়ি ছিল। গুলির শব্দের পর পুলিশকে ডাকলেও তারা এগিয়ে আসেননি বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
স্বজনদের এ অভিযোগ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ঘটনার সময় পুলিশ ঠিক কোথায় অবস্থান করছিল, তারা কখন খবর পেয়েছিল এবং খবর পাওয়ার পর কী পদক্ষেপ নিয়েছিল এসব বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন টাইমস্ টুডেকে হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা খুশিকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, নিহতের স্বামী সুমন সরদার এলাকায় ‘ব্লেড বাবু’ নামে পরিচিত। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগের সাথে খুশির হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক কী, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


