মাত্র ১৩ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে ১০ বছর বয়সী শিশু মুহাম্মদ নাঈম আহমদ। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে কোরআনের শেষ সবক শোনানোর মধ্য দিয়ে তার হিফজ সম্পন্ন হয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হিফজ সম্পন্নের ঘোষণা দেন।
নাঈম রাজধানীর উত্তরার জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম মাদ্রাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার চতুল-সরুফৌদ গ্রামে। অল্প বয়সে এত কম সময়ে কোরআন মুখস্থ করায় আনন্দিত তার পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
প্রয়াত শফিক আহমদ ও মরিয়ম বেগম দম্পতির তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট নাঈম। বাবাকে হারানোর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে সে। আর্থিক সংকটের মতো বাধা পেরিয়ে অধ্যবসায়, ইচ্ছাশক্তি ও শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যায় পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছে শিশুটি।
নাঈমের মা মরিয়ম বেগম জানান, ছেলেকে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল তাদের। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম মাদ্রাসা পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
মরিয়ম বেগম বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে হাফেজ বানানোর, কিন্তু আমাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। আমার স্বামী প্রায় সাত বছর আগে ইন্তেকাল করেন। অভাব-অনটনের কারণে একসময় সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ঠিক সেই সময়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায় জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।’
ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মরিয়ম বেগম দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করার পাশাপাশি জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আমার ছেলে মাত্র ১৩ মাসে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। দেশবাসীর কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই। সে যেন বড় হয়ে ইসলাম ও দেশের খেদমত করতে পারে।’
মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মাহবুবুল আম্বিয়া জানান, নাঈম খুব অল্প সময়ের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার এই অর্জনে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ সবাই আনন্দিত। নাঈমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনিও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
নাঈম বলে, ‘মায়ের দোয়া ও মাদ্রাসার ওস্তাদদের সহযোগিতায় আমি ১৩ মাসের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করেছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, যেন ভবিষ্যতে একজন আলেম হয়ে দেশ, জাতি ও ইসলামের খেদমত করতে পারি।’


