সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে তাকে কবে নাগাদ দেশে ফেরানো সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নাজমুল হাসান।
নাজমুল হাসান বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দুদকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সংশ্লিষ্ট রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকায় সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ রেখে কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ জুন প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। পুলিশের জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে পাঠানো এসব নথির মধ্যে ছিল সংশ্লিষ্ট মামলার কাগজপত্র, গ্রেফতারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে এসব নথি পাঠানোর কথা জানানো হয়।
এর আগে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হন বেনজীর আহমেদ। ১৪ জুন জাতীয় সংসদে তার গ্রেফতারের তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদান-প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়।
তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় নথিপত্রের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার তথ্য সামনে আসে গত ২১ জুলাই। ওই দিন দুদক জানায়, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে মামলার নথিসহ কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে ঠিক কোন কোন বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।
জুলাইয়ের শেষ দিকে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে জামিন পেয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে ২ আগস্ট দুদক জানায়, তিনি কীসের ভিত্তিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।
একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নিতে দুবাইয়ে একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


