চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আটটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিক বৈঠক, ক্যাম্পের স্থান পরিদর্শন ও প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় আয়োজনটি। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর। এজিএস তৌফিকের দাবি, চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিবের অপপ্রচারের কারণে ক্যাম্পটি স্থগিত হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগের কথা জানান এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সাজিনাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আটটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি রক্তদান কর্মসূচি আয়োজনের কথা ছিল। এ লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে প্রথম বৈঠকে আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি হয়। পরে চাকসুর চারজন সদস্যকে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করে ক্যাম্পের বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করা হয়।
এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে। চাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্যাম্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থান পরিদর্শন করে এবং যাবতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় ক্যাম্পের সাজসজ্জার কাজও শুরু হয়েছিল। আগামী ১১ অক্টোবর ক্যাম্পটি আয়োজনের কথা ছিল।
তবে প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পরও স্থগিত হয়ে যায় ক্যাম্পটি। এজিএস তৌফিকের দাবি, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব আয়োজন নিয়ে অপপ্রচার করেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে এসব তথ্য সংশোধনের কথা বলায় জিএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে ক্যাম্পটি স্থগিত করিয়েছেন।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, আমাদের পূর্ববর্তী মেডিকেল ক্যাম্পগুলোর কার্যক্রম দেখে সাজিনাজ হসপিটাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই চাকসুর সঙ্গে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মাননীয় উপাচার্য স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের আগ্রহ ও সহযোগিতায় এবং চাকসুর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার প্রায় ২১ জন চিকিৎসকের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, তার এই দাবি স্পষ্টতই মিথ্যা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি; বরং আমিই নিজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের কাজ এগিয়ে নিয়েছি। আমি যোগাযোগ করেছি বা আয়োজনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি এই কৃতিত্ব তিনি স্বীকার করতে নারাজ। তাই মিথ্যাচারের মাধ্যমে কৃতিত্ব নিজের পকেটে নিতে হবে। সেজন্য পোস্টে মিথ্যাচার করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এর আগেও চাকসু ও হল সংসদের উদ্যোগে একাধিক মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ জুলাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত একটি ক্যাম্পে প্রায় দেড় হাজার নারী শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা নেন। ক্যাম্পে গাইনি, পুষ্টি, মেডিসিন ও চর্মরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সেবা দেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২ অক্টোবর নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদ ও চাকসুর যৌথ উদ্যোগে ন্যাশনাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডের সহযোগিতায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ৯ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাম্পে চার শতাধিক শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রাথমিক ওষুধ পান।
চাকসুতে নির্বাচিত ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের সদস্যদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাসেবা পেলেও ছাত্রদল মনোনীত চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পরিকল্পিত মেডিকেল ক্যাম্পটি প্রস্তুতি এগিয়ে যাওয়ার পর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চাকসুর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলীয় নেতাদের কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ও প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মেডিকেল ক্যাম্প বন্ধের বিষয়ে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, আমর ফেসবুক স্টাটাসে আমি তো ওকে চ্যালেঞ্জ দিলাম। ও যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি মেডিকেল ক্যাম্প বন্ধ করাইছি, তাহলে আমি ওকে ১০ কোটি টাকা উপহার দিব এবং আমি আমার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করব এবং ওকে আমি বলছি যে ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য। তিনি আরও বলেন, ওর ব্যক্তিগত ক্রেডিট বাজির কারণে একটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদেরকে সহযোগিতা করতে চাইছে, মেডিকেল ক্যাম্প করতে চাইছে। কিন্তু ব্যক্তিগত ক্রেডিট বাজির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্ভবত এটা বন্ধ করে দিয়েছে।

