সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ৯টি মামলার শুনানি ও রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও বিষয়টি জানতে চাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে বিষয়টি আদেশের জন্য রাখা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় দেন। ওই রায়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’-এর ৭ নম্বর বিধি অনুসারে ৬০ শতাংশ নারী কোটা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করে ছয় মাসের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা প্রণয়ন এবং রিটকারীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার মূল ৫৮ জন আবেদনকারীর বাইরে আরও ৬৪ জনকে সহ-আবেদনকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে এফিডেভিট করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়মিত সেকশন প্রক্রিয়া অনুসরণ, নাম তালিকাভুক্ত করা কিংবা বিবাদী পক্ষ- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই নথি বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এরপর মাত্র এক দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মূল শুনানির চার দিনের মাথায় হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রায়ে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া নতুন সহ-আবেদনকারীদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এ ধরনের মোট ৯টি মামলায় অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে। শুনানির সময় মামলার নথিতে প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ও অস্বাভাবিক দ্রুততার বিষয়গুলো সামনে এলে আপিল বিভাগ অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। আদালত বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের বক্তব্যও নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, মূল পিটিশনারদের কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং কয়েকজনকে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ করেছেন, যদিও সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল। বৃহস্পতিবার আদালতের আদেশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।


