...|...|...

অর্থনীতি

পূজার ছুটিতে মাছ-সবজিতে স্বস্তি, চড়া মুরগি-ডিম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩২
Shares
পূজার ছুটিতে মাছ-সবজিতে স্বস্তি, চড়া মুরগি-ডিম

ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীর বাজারে মাছ ও সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি ছুটিতে ক্রেতার আনাগোনা কমে যাওয়ায় কমেছে কয়েকটি পণ্যের দাম। চার-পাঁচ দিন আগের তুলনায় বড় রুই মাছের কেজিতে দাম কমেছে প্রায় ১০০ টাকা। তবে মাছ-সবজির বাজারে স্বস্তি মিললেও মুরগি ও ডিমের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের বাড়তি দামেই এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ সবজির দাম ছিল ১৮০ টাকা। কাঁচামরিচের কেজি ২০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকায়। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। সাদা গোল বেগুনের কেজি ১০০ টাকা। তবে টমেটোর দাম বেড়েছে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

এ ছাড়া প্রতি কেজি ধুন্দল ৮০, ফুলকপি ৬০, শসা ৭০ থেকে ৮০, গাজর ১০০, কাঁকরোল ও করলা ৮০ এবং পটল ও ঢেঁড়স ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। চারটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

রামপুরা কাঁচাবাজারের জাহানারা সবজি বিতানের বিক্রেতা ফারুক আহমেদ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ তুলনামূলক বেড়েছে। এতে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও দামের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারে বড় রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৪২০, পাঙাশ ২০০ এবং পাবদা ৩৬০ টাকায়। দেশীয় বিভিন্ন ছোট মাছের দামও তুলনামূলক কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

বারিধারা ডিওএইচএস সংলগ্ন বাজারে মাছ কিনতে আসা নূরে আলম জুয়েল, চার-পাঁচ দিন আগেও বড় রুই মাছের কেজি ৪৫০ টাকা দিয়ে কিনেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার একই মাছ কিনেছেন ৩৫০ টাকায়। সবজির বাজারেও কয়েকটি পণ্যের দাম কম মনে হয়েছে। শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

একই বাজারের মাছ বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, পূজার ছুটিতে অনেকেই গ্রামে চলে গেছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে। মাছের সরবরাহ থাকলেও সে অনুযায়ী ক্রেতা নেই। এ কারণে দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল দাম আরও কম ছিল। তবে মাছের বাজারে প্রায়ই দামের ওঠানামা হয়।

মুরগি-ডিমে কমেনি চাপ

মাছ ও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মুরগি ও ডিমের বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জোয়ার সাহারা বাজারের আল্লাহর দান চিকেন হাউজের বিক্রেতা শওকত উল্লাহ বলেন, পাইকারি বাজারে মুরগির দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, ডিমের দামও ক্রেতাদের বাড়তি খরচের কারণ হয়ে আছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। বিক্রেতা মো. নাঈম বলেন, ডিমের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।

সব মিলিয়ে পূজার ছুটিতে ক্রেতা কমে যাওয়া ও সবজির সরবরাহ বাড়ার প্রভাবে রাজধানীর বাজারে মাছ-সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে মুরগি ও ডিমের বাড়তি দাম বহাল থাকায় নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের খরচের চাপ পুরোপুরি কমেনি।