...|...|...

লাইফস্টাইল

তীব্র গরমে ত্বক সতেজ রাখতে পারেন যেভাবে

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১:২৪ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:০২
Shares
তীব্র গরমে ত্বক সতেজ রাখতে পারেন যেভাবে

প্রচণ্ড গরমে ত্বক একই সাথে নিস্তেজ, চটচটে এবং শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি এবং ধুলোবালির কারণে ত্বকে ট্যান বা কালচে ছোপ, পিগমেন্টেশন এবং চুলকানির মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে একটি সহজ ও কার্যকরী গ্রীষ্মকালীন স্কিনকেয়ার রুটিন আপনার ত্বককে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করা, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং ঘাম ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করাই হলো গ্রীষ্মের তীব্র গরমে মূল লক্ষ্য। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরামর্শগুলো আমাদের আবহাওয়ায় সব ধরনের ত্বকের জন্য বেশ উপযোগী। এতে সানস্ক্রিন ব্যবহার, হালকা ময়েশ্চারাইজার, মৃদু ক্লিনজিং এবং কিছু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে এবং হিট র‍্যাশ কমাতে সাহায্য করে। 

তবে কারো যদি কোনো বিশেষ চর্মরোগ বা অ্যালার্জি থাকে, তবে নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক ধরে রাখতে গ্রীষ্মের এই দিনগুলোতে যে ১০টি নিয়ম মেনে চলা জরুরি: 

১. প্রতিদিন সকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

প্রতিদিন সকালে ঘরের বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট আগে একটি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দৈনিক ব্যবহারের জন্য এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি রেটিংযুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া উচিত। এটি মুখ, গলা, কান এবং শরীরের অন্যান্য উন্মুক্ত অংশে ভালোভাবে লাগান। সানস্ক্রিন ত্বককে রোদে পোড়া, ট্যান পড়া, ডার্ক স্পট এবং অকাল বার্ধক্যের হাত থেকে রক্ষা করে। 

২. নিয়মিত সানস্ক্রিন পুনরায় লাগান 

বাইরে থাকাকালীন প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে বা মুখ মুছে ফেললে আরও দ্রুত লাগানো উচিত। মুখ ও গলার জন্য অন্তত দুই আঙুল পরিমাণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন। যারা মেকআপ করেন, তারা রিঅ্যাপ্লিকেশনের জন্য সানস্ক্রিন জেল বা স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

৩. দিনে দুইবার মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন

ত্বক শুষ্ক না করে ঘাম, তেল ও ধুলোবালি দূর করতে দিনে দুইবার মৃদু বা মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত স্ক্রাব বা ক্ষারযুক্ত কড়া সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন; এগুলো ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করে তেল ও লালচে ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ওয়ার্কআউট বা ব্যায়ামের পর দ্রুত মুখ ধুয়ে ফেলা উচিত যাতে ব্রণের উপদ্রব না হয়। 

৪. আর্দ্র আবহাওয়াতেও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ভুলবেন না

ত্বককে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এই সময়ে জেল বা লোশন টেক্সচারের নন-গ্রীসি (তেলমুক্ত) ময়েশ্চারাইজার সবচেয়ে ভালো। গ্লিসারিন এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত উপাদান ত্বকের পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ময়েশ্চারাইজার না লাগালে ত্বক খসখসে বা টানটান হয়ে যেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ত্বক শুষ্কতা ঢাকতে নিজে থেকে অতিরিক্ত তেল তৈরি করতে পারে। 

৫. পর্যাপ্ত পানি পান ও হাইড্রেটিং খাবার গ্রহণ

ত্বকের ভেতরের সুস্থতা বজায় রাখতে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় শসা, তরমুজ, কমলা এবং টক দইয়ের মতো পানি ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এগুলো ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে। 

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করুন, কারণ এগুলো ত্বকের কোনো উপকার ছাড়াই শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। বেশি ঘাম হলে সাধারণ পানির পাশাপাশি এক চিমটি লবণ দিয়ে লেবুর শরবত খেতে পারেন। তৃষ্ণা পাওয়া বা প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হওয়া শরীর ডিহাইড্রেটেড হওয়ার লক্ষণ। 

৬. দিনের বেলায় ভারী মেকআপ ও ঘন ক্রিম এড়িয়ে চলুন

দিনের বেলা ভারী বেস মেকআপ ঘামের সাথে মিশে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে ত্বকে ব্রণ ও ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা বাম্প দেখা দেয়। যদি মেকআপ করতেই হয়, তবে হালকা কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন এবং রাতে ঘুমানোর আগে তা খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। দিনের বেলার স্কিনকেয়ার রুটিন যতটা সম্ভব সহজ রাখুন: ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন এবং লিপবাম। 

৭. আলতোভাবে স্ক্রাবিং করুন, তবে প্রতিদিন নয়

ত্বকের মৃতকোষ দূর করে উজ্জ্বলতা ফেরাতে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং করতে পারেন। এজন্য মৃদু কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট বা একদম ছোট কণিকাযুক্ত নরম স্ক্রাব বেছে নিন। অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশনের ফলে ত্বক জ্বালাপোড়া করতে পারে, চামড়া উঠতে পারে এবং ট্যান পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। তীব্র রোদে যাওয়ার ঠিক আগে কখনোই এক্সফোলিয়াট করবেন না।

৮. রোদ থেকে ফেরার পর ত্বকের বিশেষ যত্ন 

রোদ থেকে ফেরার পর যদি ত্বক গরম বা লালচে হয়ে যায়, তবে প্রথমে ত্বককে ঠান্ডা করুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন এবং একটি আরামদায়ক জেল বা হালকা লোশন লাগান। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল ত্বকের মৃদু জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি কমাতে দারুণ কাজ করে। ত্বক সংবেদনশীল হয়ে থাকলে সেদিন রাতে রেটিনয়েড বা কড়া অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী উপাদান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। 

৯. ঠোঁট, চোখ এবং হাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন

গ্রীষ্মে সাধারণত ঠোঁট এবং হাতের যত্নের কথা আমরা ভুলে যাই। দিনের বেলা এসপিএফ যুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন। চোখের চারপাশের ত্বককে ইউভি রশ্মি থেকে বাঁচাতে সানগ্লাস বা চশমা পরুন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত গাড়ি বা বাইক চালান, তারা হাতের উপরিভাগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, কারণ এই অংশগুলো খুব দ্রুত ট্যান হয়ে যায় এবং সান স্পট দেখা দেয়।

১০. আরামদায়ক পোশাক পরুন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

ত্বকের যত্নে পোশাকের ভূমিকাও অনেক। ঘাম জমে থাকা কমাতে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক বেছে নিন। বাইরে যাওয়ার সময় চওড়া হ্যাট বা ক্যাপ ব্যবহার করুন এবং দুপুরের তীব্র রোদে ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। এছাড়া গ্রীষ্মকালে বালিশের কভার নিয়মিত পরিবর্তন করুন, ফোনের স্ক্রিন ও সানগ্লাস পরিষ্কার রাখুন এবং মেকআপ ব্রাশ ধুয়ে নিন। এতে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া ও তেলের সংক্রমণ কমবে।