...|...|...

জাতীয়

জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ, এরপর আর ফেরেননি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৫৬
Shares
জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ, এরপর আর ফেরেননি

তাহসিফ সাউরি ও তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর তার সাথে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষবারের মতো মেসেজ পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ পরদিন নদী থেকে তার লাশ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। এসব তথ্য জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গনমাধ্যমকে হেলাল জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় পুরো সময় মায়ের সাথে ছিলেন তাহসিফ। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে এক জুনিয়র বাসার নিচ থেকে ডাকলে মাকে জানিয়ে বাইরে যান তিনি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি।

তাহসিফের বাবা বলেন, ছেলের মা একাধিকবার ফোন করেও তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের কাছ থেকে একটি মেসেজ আসে। সেখানে তিনি বাসায় ফিরছেন বলে জানান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ছেলেকে খুঁজতে বুধবার দুপুরে তুরাগ থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তার ভাষ্য, পুলিশ তখন তাকে আশ্বস্ত করে জানায়, খারাপ কোনো খবর নেই। তবে ওই দিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নদীতে মরদেহ উদ্ধারের খবর দেন।

হেলাল জানান, রাজাবাড়ি ঘাট এলাকায় তাহসিফের লাশ পাওয়া যায়। সেখানে যেতে আটিপাড়া হয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় তার ছেলে আগে কখনো গিয়েছিলেন বলে তিনি জানেন না। কে বা কারা তার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী, সে বিষয়েও কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।

বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের অব্যাহতির বিষয়ে তার বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের সাথে চাকরিচ্যুতির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা পরিবারকে জানানো হয়নি।

হেলাল বলেন, বিষয়টি তাহসিফের সংশ্লিষ্ট বিভাগই নিশ্চিত করতে পারবে। পরিবারকে শুধু জানানো হয়েছিল, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চাকরি ছাড়ার পর তাহসিফ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বলেও জানান তার বাবা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজে কাজ করার পর সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন তিনি।

ছেলের স্বভাব সম্পর্কে হেলাল বলেন, তাহসিফ ছিলেন ভদ্র ও মিশুক প্রকৃতির। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। কোনো হুমকি বা হুমকির বার্তা পাওয়ার কথা তাহসিফ পরিবারকে জানাননি। তবে একবার কিছুটা আশঙ্কার কথা বলেছিলেন বলে জানান তিনি।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উপকণ্ঠে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরখান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। পরে ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এমন দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তার মৃত্যুর সাথে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।