...|...|...

অন্যান্য

ঘরে বসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন যেভাবে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:০৮ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:১২
Shares
ঘরে বসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করতে এখন প্রাথমিক আবেদনপ্রক্রিয়ার বেশির ভাগ কাজ ঘরে বসেই অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। এতে পাসপোর্ট অফিসে বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমে। তবে আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়।

ই-পাসপোর্টে ইলেকট্রনিক চিপে পাসপোর্টধারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য করতে এ প্রযুক্তি সহায়তা করে।

ই-পাসপোর্ট করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

অনলাইনে আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। সাধারণত আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হতে পারে—

১. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ: বয়স ও প্রযোজ্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন যাচাইযোগ্য জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবে।

২. আগের পাসপোর্ট: আগে পাসপোর্ট করা থাকলে পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে। পুনরায় ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টও সাথে রাখতে হতে পারে।

৩. পেশাসংক্রান্ত কাগজপত্র: বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, চাকরির পরিচয়পত্র, অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বা পেশার সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে।

৪. বাবা-মায়ের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য: আবেদনপত্রে বাবা-মায়ের নাম ও অন্যান্য তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণের জন্য তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য কাছে রাখা উচিত।

আবেদনকারীর বয়স, পেশা, পাসপোর্টের ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন শুরুর আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে: epassport.gov.bd।

আবেদনের ধাপগুলো হলো—

১. সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন আবেদনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

২. প্রয়োজন অনুযায়ী ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

৩. আবেদনকারীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী প্রযোজ্য পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করুন।

৪. নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।

৫. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের সাথে আবেদনপত্রের সব তথ্য মিলিয়ে দেখুন। নামের বানান কিংবা জন্মতারিখে ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৬. পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরন নির্বাচন করুন।

৭. আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন।

৮. নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করে আবেদনপত্র ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

৯. এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং সরবরাহের ধরনের ওপর। নিচে প্রচলিত ফি কাঠামোর একটি তালিকা দেওয়া হলো। তবে আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ফি ও প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করে নেওয়া উচিত।

৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট

৫ বছর মেয়াদি

রেগুলার ডেলিভারি: ৪,০২৫ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,৬২৫ টাকা

১০ বছর মেয়াদি

রেগুলার ডেলিভারি: ৫,৭৫০ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা

৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট

৫ বছর মেয়াদি

রেগুলার ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,৬২৫ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১২,০৭৫ টাকা

১০ বছর মেয়াদি

রেগুলার ডেলিভারি: ৮,০২৫ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১৩,৮০০ টাকা

উল্লিখিত ফি ও ডেলিভারির সময় আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা সরকারি ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত হতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রদর্শিত ফি ও পরিশোধের নিয়ম অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার নিয়ম

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের কপি, পরিচয়পত্র এবং ফি পরিশোধের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। আগে পাসপোর্ট করা থাকলে সেটিও সাথে নিতে হবে।

নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং চোখের আইরিস স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ছবি তোলার সময় মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়-এমন পোশাক পরা ভালো। ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

ই-পাসপোর্টের আবেদন নিজেই অনলাইনে করা সম্ভব। তবে ফরম পূরণ, তথ্য যাচাই, ফি পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিলে সংশোধন বা যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগতে পারে।

আবেদন করার আগে epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নির্দেশনা, ফি এবং ডেলিভারির সময় যাচাই করুন। কোনো দালালের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই; সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে নিজেই আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

মনে রাখতে হবে, অনলাইনে আবেদন করলেই পুরো প্রক্রিয়া ঘরে বসে শেষ হয় না। ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক।