...|...|...

ধর্ম

কন্যা সন্তানের যত্ন ও লালন-পালন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫ হাদিস

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৬
Shares
কন্যা সন্তানের যত্ন ও লালন-পালন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫ হাদিস

ছবি: সংগৃহীত

কন্যা সন্তানকে আল্লাহর রহমত ও বরকত হিসেবে গণ্য করেছে ইসলাম। জাহেলি যুগে যখন কন্যাসন্তানকে অভিশাপ ও লজ্জার বিষয় মনে করে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো, সেই অন্ধকার যুগে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কন্যাশিশুর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। সঠিক শিক্ষা, ভালোবাসা ও স্নেহের সাথে কন্যাসন্তানকে বড় করলে পরকালের মুক্তির পথ সুগম হয়।

কন্যা সন্তানের যথাযথ লালন-পালনের ফজিলত ও জান্নাতের সুসংবাদসংক্রান্ত ৫টি হাদিস তুলে ধরা হলো:
১. জান্নাতে প্রবেশের উসিলা
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যার কোনো কন্যাসন্তান রয়েছে আর সে তাকে জীবন্ত দাফন করেনি, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করেনি এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর অগ্রাধিকার দেয়নি, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন (মুসনাদে আহমাদ)।

২. তিন বা দুই কন্যার ফায়সালা
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার তিনজন কন্যাসন্তান রয়েছে এবং সে তাদের আশ্রয় দেয়, দয়া করে ও ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। এক সাহাবি জানতে চাইলেন, দুটি হলে? নবীজি বললেন, দুটি হলেও সে একই পুরস্কার পাবে। উপস্থিত অনেকে ধারণা করেন, যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মাত্র একটি কন্যা সন্তানের বিষয়েও প্রশ্ন করা হতো, তবে তিনিও একই পুরস্কারের কথা বলতেন। (আলবানি)।

৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঢাল
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, এক অভাবী নারী তার দুই কন্যাকে নিয়ে এসে সাহায্য চান। সে সময় আয়েশা (রা.)-এর কাছে একটিমাত্র খেজুর ছিল। তিনি সেটিই ওই নারীকে দিলে তিনি তা দুই মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দেন, নিজে কিছুই খাননি। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে এলে ঘটনাটি শুনে বললেন, এ ধরনের কন্যাসন্তান নিয়ে যে ব্যক্তি পরীক্ষার মুখে পড়ে এবং তাদের সাথে সদয় আচরণ করে, তারা কেয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে (মুসলিম)।

৪. ধৈর্য ও ভরণপোষণের প্রতিদান
উকবা ইবনে আমীর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং সে তাদের লালন-পালনে ধৈর্য ধারণ করে, নিজের উপার্জিত সম্পদ থেকে তাদের অন্ন, পানীয় ও পোশাকের ব্যবস্থা করে, তবে তারা কেয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষার ঢাল হবে (আলবানি)।

৫. মহানবীর সান্নিধ্য লাভ
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তানকে তারা সাবালক বা বয়োপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কেয়ামতের দিন সে এবং আমি এমন কাছাকাছি থাকব—এই বলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার আঙুলগুলো মিলিয়ে বিশেষ সান্নিধ্যের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলেন (মুসলিম)।