...|...|...

বিশ্ব

ককরোচদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি যোগসূত্রের দাবি মোদি সরকারের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:১২
Shares
ককরোচদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি যোগসূত্রের দাবি মোদি সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও পাকিস্তানি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) বিরুদ্ধে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের দাবি, ভারতবিরোধী তৎপরতা চালাতে বিদেশি উৎস থেকে অর্থায়ন পাচ্ছে দলটি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রকাশ না করায় সরকারের সমালোচনা করেছে বিরোধীরা।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেছেন, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতাদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন। অন্যদিকে দলটির কৌশলবিদ আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে দাবি তার।

জিতেন্দ্র সিং বলেন, তাদের (সিজেপি) যে অননুমোদিত উৎস থেকে, অর্থাৎ ভারতবিরোধী এনজিও এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে, তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

এদিকে সিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের আড়ালে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ এনেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহার দাবি, দিল্লিতে উৎসবের মৌসুমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কংগ্রেসের সাথে পরিকল্পিতভাবে আন্দোলন করছে সিজেপি।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তও শুরু করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এরই মধ্যে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং দলটির কৌশলবিদ আশুতোষ রাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা, অনুমতি ছাড়া দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং অন্য দলের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়ে ৫০ হাজার রুপির বন্ডে মুক্তি পেয়েছিলেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।

তবে বিদেশি অর্থায়ন ও পাকিস্তানি যোগসূত্রের অভিযোগ নিয়ে মোদি সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা।

কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করতে পারছেন না কেন।

একই সাথে ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

খাড়গে বলেন, বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তার তথ্যপ্রমাণ থাকার কথা।

এ ছাড়া কংগ্রেস, বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

প্রয়োজনে আরএসএসপ্রধান মোহন ভাগবতকে ওই বিতর্কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফলে সিজেপির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ ঘিরে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তানি যোগসূত্র ও অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।