আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিনটি গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক এক উদ্যোগ, যা সড়ক দুর্ঘটনা, আঘাত, প্রতিবন্ধিতা ও মৃত্যুঝুঁকি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। প্রতিবছর ২২ অক্টোবর দিনটি পালিত হয়। নিরাপদ সড়ক, দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো, পথচারীদের সুরক্ষা, ট্রাফিক আইন মানা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এটি কেবল পরিবহন-সংক্রান্ত বিষয় নয়। এটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সড়ক দুর্ঘটনা মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, পারিবারিক স্থিতিশীলতা, উৎপাদনশীলতা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করে। মোটরচালিত যানবাহনের প্রসার এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতার বিকাশ ঘটে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ১১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ মারা যায় এবং দুই থেকে পাঁচ কোটি মানুষ আহত হয়; এর মধ্যে ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণ আছে। নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রধান জনস্বাস্থ্যগত প্রভাবগুলো হলো:
ক. মৃত্যু ও আঘাত হ্রাস,
খ. প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ,
গ. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি,
ঘ. ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা,
ঙ. জরুরি সেবার উন্নয়ন,
চ. অর্থনৈতিক বোঝা হ্রাস এবং
ছ. জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা। এর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব নির্ভর করে ধারাবাহিক শিক্ষা, আইন প্রয়োগ, নিরাপদ অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার ওপর। নিরাপদ সড়ক দিবস নিম্নলিখিত উপায়ে জাতীয় স্বাস্থ্য উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে নানাভাবে।
ক. জনসচেতনতা,
খ. মোটরসাইকেল ও মোটরচালিত রিকশার (দেশীয় টেসলা) ড্রাইভিং লাইসেন্স, সঠিক ব্রেক ও নিয়মাবলির মাধ্যমে নিরাপদকরণ,
গ. পথচারীদের সুরক্ষা,
ঘ. নিরাপদ গণপরিবহন,
ঙ. প্রতিবন্ধিতা হ্রাস,
চ. পারিবারিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুকরণ,
ছ. স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন,
জ. সরকারি জবাবদিহি ইতাদি।
নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য দেশে নিম্নলিখিত কার্যক্রম জোরদার করা যেতে পারে।
ক. জনসচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও সমাবেশ,
খ. বিদ্যালয়ভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা,
গ. হেলমেট ব্যবহারের ওপর জিরো টলারেন্স,
ঘ. চালকদের প্রশিক্ষণ,
ঙ. কমিউনিটি পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রদর্শনী,
চ. সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মার্কিং
ছ. উল্টো পথে যানবাহন চলাচলে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স ইত্যাদি।
দেশে ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন ২২ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন এ আন্দোলনের সূচনা হয়। ১৯৯৮ সালে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ জনসচেতনতামূলক প্রচারণা সংগঠন ২২ অক্টোবরকে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন শুরু করে। ২০১৭ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২২ অক্টোবরকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে।
জনস্বাস্থ্যের ওপর সর্বোচ্চ প্রভাব অর্জনের সুপারিশ
ক. স্কুল-কলেজ ও কমিউনিটিতে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা,
খ. গতিসীমা, লাইসেন্স, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহারে জিরো টলারেন্স,
গ. ফুটপাত, পারাপার, সড়কবাতি, সড়কচিহ্ন ও মোড়ের নকশা উন্নত করা,
ঘ. ইমারজেন্সি চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা,
ঙ. দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ও পরিবারকে মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান।
নিরাপদ সড়ক দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিবস নয়; এটি মানুষের জীবন রক্ষা, প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।


